কালীঘাটে টানটান উত্তেজনা, অভিষেকের বাড়িতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালাল শালবনী থানার পুলিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে শালবনী থানার পুলিশের আকস্মিক তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গতকাল রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আচমকাই পটুয়াপাড়ার ওই বাড়িতে হাজির হয় মেদিনীপুরের শালবনী থানার সাত সদস্যের একটি পুলিশ দল। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ডেকে বাড়ির তালা পর্যন্ত ভাঙা হয়। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন ওই বাড়িতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাড়ি তল্লাশির বিষয়টি স্বীকার করেন।
নেপথ্যে কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ও মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, বরং তাঁর ছায়াসঙ্গী তথা আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজেই এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে। সুমিতের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে দলের টিকিট দেওয়া এবং বড়সড় আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি মেদিনীপুরের একটি জমি কেলেঙ্কারিতেও নাম জড়িয়েছে তাঁর। এই জমি জালিয়াতির মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ, আর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই উঠে আসে সুমিতের নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতেই শালবনী থানা সুমিতের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে, গতকাল রাত আড়াইটে পর্যন্ত সুমিত রায়ের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন দেখাচ্ছিল অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। সেই নিশ্চিত সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই গভীর রাতে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় ছুটে আসে শালবনী থানার পুলিশ।
তদন্তে সহযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
তদন্তকারী দলের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানান যে, কাউকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে তাঁর পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁরা সবরকম সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সুমিত রায়কে এর আগেও কয়লা পাচার মামলায় নিজাম প্যালেসে ডেকে বয়ান রেকর্ড করেছিল সিবিআই। ফলে এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায় এবং এর পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
