বর্ষা ঢুকতেই ধেয়ে আসছে সুপার এল নিনো, চরম খরা ও জলসঙ্কটের মুখে কি ভারত – এবেলা

বর্ষা ঢুকতেই ধেয়ে আসছে সুপার এল নিনো, চরম খরা ও জলসঙ্কটের মুখে কি ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতে জুনের শুরুতেই বর্ষার আগমন ঘটলেও দেশের আবহাওয়া মণ্ডলে ঘনাচ্ছে এক চরম বিপর্যয়ের মেঘ। প্রশান্ত মহাসাগরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে আবহাওয়ার বিপজ্জনক খামখেয়ালিপনা ‘এল নিনো’। মৌসম ভবন (আইএমডি) তাদের জুন মাসের বুলেটিনে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চলাকালীন এই এল নিনো আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে, যা আগামী দিনে দেশজুড়ে তীব্র খরা ও জলসঙ্কটের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

সমুদ্রের তলদেশে জমছে গরম জল

চলতি জুন মাসের আবহাওয়া সূচক অনুযায়ী, সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা পরিমাপক বিশেষ সূচক বা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ ইতিমধ্যেই +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো শুরুর স্পষ্ট প্রমাণ। বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু সমুদ্রের উপরিভাগই নয়, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও বিপুল পরিমাণ গরম জল জমা হচ্ছে। জুলাই মাস থেকে এই তীব্র গরম স্রোত সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি একটি ‘সুপার এল নিনো’-তে রূপ নেবে। সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার নেতিবাচক প্রভাব এখন থেকেই বায়ুমণ্ডলে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

কৃষি ও জনজীবনে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত

সাধারণত এল নিনো সক্রিয় হলে ভারতের মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। অতীতেও যখনই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখনই দেশে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমেছে এবং তাপমাত্রার পারদ সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছে। বর্তমান পরিস্থিতি যদি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, তবে দেশের কৃষি খাতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে চাষাবাদ ব্যাহত হবে, যা সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে টান ফেলবে এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে গিয়ে তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট তৈরি করবে।

ক্ষয়ক্ষতি রুখতে আশা জাগাচ্ছে পজিটিভ আইওডি

এই চরম আশঙ্কার মধ্যেও ভারতের জন্য কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে ভারত মহাসাগরে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের বর্ষা কেবল এল নিনোর ওপর নির্ভর করে না। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসের দিকে ভারত মহাসাগরে একটি ‘পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) বা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। যদি এই পজিটিভ আইওডি শক্তিশালী হয়, তবে তা সুপার এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাবকে অনেকটাই প্রতিহত করতে সক্ষম হবে। এর ফলে ভারতে সম্ভাব্য খরা বা বৃষ্টির ঘাটতির তীব্রতা কিছুটা হলেও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *