নজিরবিহীন শীতলকুচি! লাগাতার প্রতিবাদের চাপে আবাস যোজনার ‘কাটমানি’ উপভোক্তাদের ফেরত দিলেন পঞ্চায়েত সদস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোচবিহার: রাজনৈতিক চাপ আর আমজনতার লাগাতার প্রতিবাদের মুখে পড়ে অবশেষে মাথা নোয়াতে বাধ্য হলেন শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য। গরিবের আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া ‘কাটমানি’র টাকা নিজের হাতেই উপভোক্তাদের ফিরিয়ে দিলেন তিনি। শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের বড়কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬৮ নম্বর বুথ এলাকায় এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা জেলায়।
আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার বেশ কিছু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য বসন্ত বর্মনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এই কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ জমছিল। সম্প্রতি বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটায় চাপ বাড়ছিল ওই নেতার ওপর। অবশেষে শনিবার ১৩ জন উপভোক্তার হাতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
৪ হাজার টাকা ফেরত পেয়ে খুশি নবীন বর্মন
এদিন টাকা হাতে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন প্রতারিত উপভোক্তারা। নবীন বর্মন নামে এক উপভোক্তা জানান, “আবাস যোজনার ঘর পাওয়ার জন্য পঞ্চায়েত সদস্যকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। আজ উনি ৪ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকি ১ হাজার টাকাও পরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।”
কী বলছেন অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য?
টাকা ফেরতের বিষয়ে কোণঠাসা পঞ্চায়েত সদস্য বসন্ত বর্মন অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, “বাসিন্দারা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছিলেন, তাই ধাপে ধাপে তাঁদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকের টাকাই ফেরত দেওয়া হবে, কারও টাকা বাকি থাকবে না।”
আন্দোলনের নৈতিক জয়, দাবি বিজেপির
এদিকে এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের এবং তাঁদের আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির মণ্ডলের শক্তি প্রমুখ রত্নেশ্বর বর্মন বলেন, “আমজনতার লাগাতার আন্দোলন আর চাপের মুখেই পঞ্চায়েত সদস্য কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। এটা আমাদের নৈতিক জয়। সরকারি প্রকল্পের নাম করে গরিব মানুষের পকেট কাটার এই নোংরা খেলা বন্ধ হওয়া দরকার।”
শীতলকুচির এই ঘটনায় কাটমানি ফেরত পাওয়ার স্বস্তি যেমন রয়েছে উপভোক্তাদের মধ্যে, তেমনই শাসকদলের এমন প্রকাশ্য টাকা ফেরতের ঘটনা বীরভূমের পর এবার কোচবিহারে তৃণমূলের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
