দলের দুর্দিনে সুদীপের পাশে কি কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়, তৃণমূলের অন্দরে এবার কল্যাণের বিস্ফোরক তোপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও ক্ষোভের আবহ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শনিবার দিল্লির বুকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির রাজ্য পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি এবং সঙ্গে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের অবস্থান তৃণমূলের অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় মমতা-পন্থীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে এবার সরাসরি তোপ দেগেছেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের অন্দরে বিশ্বাসের ফাটল ও এজেন্সির ছায়া
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘দিল্লি যাত্রা’ ও শিবির বদলের জল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে থাকতে পারে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। তাঁর মতে, রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারি এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মামলার হাত থেকে রেহাই পেতেই হয়তো পর্দার আড়ালের কোনো বড় প্রলোভনে পা দিয়েছেন সুদীপ। অতীতে এই চিটফান্ড মামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কারাবন্দী ছিলেন, তখন দলের সতীর্থরাই আইনি লড়াই লড়ে তাঁকে মুক্ত করেছিলেন। ফলে দলের এই চরম সংকটের দিনে তাঁর এমন আচরণকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই দেখছেন তৃণমূলের একাংশ।
মমতা-প্রীতি বনাম যোগ্য নেতৃত্বের অবহেলা
এই দলবদল জল্পনার জেরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে দলীয় নেতৃত্বের সমীকরণে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্ধের মতো বিশ্বাস ও সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন। উত্তর কলকাতায় সুদীপের একচ্ছত্র দাপট এবং অন্যান্য কাউন্সিলর ও বিধায়কদের অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়ার খেসারত এখন দলকে দিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন খোদ দলীয় নেতারাই। অতীতে যোগ্য নেতা তাপস রায়ের দলত্যাগের পেছনেও সুদীপের অতিরিক্ত দাপটকে দায়ী করা হচ্ছে। দলের ক্ষমতা হারানোর সাথে সাথেই দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতার এই ভোলবদল তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভুলকেই যেন জনসমক্ষে তুলে ধরছে।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক প্রভাব
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সম্ভাব্য দলত্যাগের পেছনে যেমন ইডি-সিবিআইয়ের ভয় কাজ করছে, তেমনই এর পেছনে একটি নতুন গাড়ির আবদার পূরণ না হওয়ার মতো অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক কারণও উঠে এসেছে। তবে এই ভাঙনের ফলে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা একে ‘বেইমানি’ আখ্যা দিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ইভিএমে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন; অন্যদিকে, বিল পাস করানোর স্বার্থে বিরোধীদের ভাঙিয়ে নেওয়ার যে কৌশল বিজেপি নিয়েছে, তা রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলকে আরও কোণঠাসা করতে পারে। এই দলবদলের ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে বিরোধী কণ্ঠস্বর দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরমহলে আরও বড় বিপর্যয় নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
