বিধায়কদের নাম জানেন না খোদ বিদ্রোহী নেত্রী! ঋতব্রতের ‘আসল তৃণমূল’ কি শুধুই ফাঁকা আওয়াজ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে শুরু হওয়া বিদ্রোহ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদের দলত্যাগের পর রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিদ্রোহী শিবির। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে ৫৮ থেকে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন থাকার কথা বলা হলেও, এই বিধায়কদের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে ঘোরতর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তালিকায় কারা আছেন তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ ও ঘর পেয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর শিবিরের অন্যতম হেভিওয়েট নেত্রী শিউলি সাহা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁদের সঙ্গে থাকা এই বিপুল সংখ্যক বিধায়কের নাম তিনি জানেন না। অপরদিকে, আরেক বিদ্রোহী নেতা জাভেদ খান তালিকার কথা স্বীকার করলেও নামগুলি তাঁর মুখস্থ নেই বলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। খোদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার মতো নেতারাও এই বিধায়কদের নামের তালিকা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছেন।
মনস্তাত্ত্বিক চাপ নাকি কৌশলগত গোপনীয়তা
শাসক শিবিরের একাংশের দাবি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা মদন মিত্রের মতো নেতারা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই পূর্ণ আস্থা রাখছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদ্রোহী শিবির হয়তো শাসক দলের ওপর কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই বিপুল সংখ্যার দাবি করছে। পাশাপাশি, এখনই নাম প্রকাশ করলে বিধায়কদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেমে আসার ভয় থেকেই হয়তো এই কৌশলগত গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। তবে দ্রুত এই ৬৪ জন বিধায়কের নামের তালিকা প্রকাশ্যে না এলে ঋতব্রতের এই মেগা অভ্যুত্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রবল প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং তাঁর দাবিটি রাজনৈতিক মহলে ভিত্তিহীন বলে বিবেচিত হতে পারে।
