সোনার দামে মহা ধস! আমেরিকার এক সিদ্ধান্তেই কি রেকর্ড সস্তা হতে চলেছে সোনা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন বা ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ করে রেখেছেন? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। আন্তর্জাতিক বাজারের যা পরিস্থিতি, তাতে আগামী দিনে সোনার দাম ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এর নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার এক বড় সিদ্ধান্ত।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক বা ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে— এমন জল্পনা এখন তুঙ্গে। এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত ডলার শক্তিশালী হলে এবং সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি করে বন্ড বা ডলারে টাকা লাগাতে শুরু করেন। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই সোনার দাম কমতে বাধ্য।
রেকর্ড উচ্চতা থেকে ২৫% পতন!
চলতি ২০২৬ বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড ছুঁয়েছিল। আউন্স প্রতি সোনার দর পৌঁছে গিয়েছিল ৫,৫৯৫ ডলারে। তবে সেই সর্বোচ্চ স্তর থেকে ইতিমধ্যে সোনার দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফলে যাঁরা চড়া দামে সোনা কিনেছিলেন, তাঁরা আপাতত বড়সড় লোকসানের মুখে। যদিও গত এক সপ্তাহে বাজার সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এখন আউন্স প্রতি প্রায় ৪,২২২ ডলার এবং দেশের কমোডিটি মার্কেট MCX-এ ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫০,৬৭৫ টাকায়।
কতটা সস্তা হতে পারে সোনা?
আন্তর্জাতিক একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আমেরিকার আর্থিক নীতির জেরে স্বল্প মেয়াদে সোনার দাম আরও পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা আউন্স প্রতি ৩,৮৫০ থেকে ৪,০০০ ডলারের ঘরে নেমে আসতে পারে।
তবে শুধু আমেরিকা নয়, সোনার বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও। সেখানে চরম অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যালেল প্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের টেনশন কমলে এবং তেলের দাম ৮০ ডলারের আশেপাশে নামলে সোনা ও রুপোর বাজার আবার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে সোনা বাজারের ওঠানামা যেহেতু একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— যেকোনো বড় বিনিয়োগের আগে বাজারের সমস্ত ঝুঁকি ভালোভাবে খতিয়ে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
