কারাগারেই কাটল দীর্ঘ ৬ বছর, এবার কি মুক্তি পাবেন শারজিল ও উমর? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি হিংসা মামলায় নতুন করে জামিনের আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জেলবন্দি সমাজকর্মী শারজিল ইমাম ও উমর খালিদ। শনিবার দিল্লির অতিরিক্ত দায়রা আদালতে তাঁরা এই আবেদন জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ৬ বছর ধরে তাঁরা কারাবাস ভোগ করছেন এবং সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক তাঁদের আগের জামিনের আবেদন খারিজের পর দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মূল মামলার বিচারে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এই প্রেক্ষিতে দিল্লির অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সুমেধ সাইনির বেঞ্চ দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব তলব করে আগামী ৪ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
অভিযোগ ও দীর্ঘ আইনি জটিলতা
২০২০ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, যাতে ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-রও বেশি মানুষ আহত হন। দিল্লি পুলিশের দাবি, উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম ছিলেন এই হিংসাত্মক ঘটনার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন গবেষক উমর খালিদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তৃতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের পাশাপাশি কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) মামলা দায়ের করা হয়। অন্যদিকে, শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন স্তরে তাঁদের জামিনের আবেদন বারবার খারিজ বা প্রত্যাহার হয়েছে।
আবেদনের ভিত্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়াকেই এবার জামিন চাওয়ার প্রধান হাতিয়ার করেছেন এই দুই অভিযুক্ত। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন যাবৎ বিচার শুরু না হওয়া কিংবা মামলার ধীরগতি বন্দিদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী— এই যুক্তিতেই নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন তাঁরা। আদালতের আগামী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম দুই প্রধান মুখের রাজনৈতিক ও আইনি ভবিষ্যৎ। আদালত যদি এই দীর্ঘ কারাবাসকে আমলে নিয়ে জামিন মঞ্জুর করে, তবে তা দেশের ইউএপিএ মামলার ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে। আর যদি আবেদন খারিজ হয়, তবে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বন্দিদশা আরও দীর্ঘায়িত হবে, যা মানবাধিকার ও আইনি মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
