নির্বাচনী প্রচারের মন্তব্য ঘিরে নতুন আইনি জটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরও বড় আইনি জটিলতার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারী এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর দাবি, প্রচার পর্বের বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিলিগুড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা স্থানীয় ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার সিংঘল গত শুক্রবার এই অভিযোগপত্রটি জমা দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের বক্তব্য রেখেছেন, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করার পাশাপাশি এক অশান্ত পরিবেশ তৈরি করার মতো। ওই বক্তব্যগুলির ভিডিও ক্লিপ ও অডিও বর্তমানে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা সামাজিক জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সুনির্দিষ্ট জনসভার বক্তব্য খতিয়ে দেখার আবেদন
দায়ের হওয়া অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সভা, ২৭ এপ্রিল মহেশতলার জনসভা ও রোড শো এবং আরামবাগের নির্বাচনী সমাবেশের বক্তব্যগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর আবেদন, প্রশাসন যেন এই সমস্ত সভার মূল ভিডিও ফুটেজ এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট সংগ্রহ করে সেগুলির সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে। এই উস্কানিমূলক বক্তব্যগুলি দেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর পরিপন্থী কি না, তা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোনো পূর্বনির্ধারিত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা রায়ের দাবি করছেন না; বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই নাগরিক হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। রাজ্য রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগের ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর আইনি চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, ব্যবসায়িক মহলের একাংশের এই প্রকাশ্য অবস্থান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার থানা পুলিশ পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
