বিচারপতিদের বারবার আক্রমণ করা তৃণমূল সেনাপতির ভাগ্য এখন আদালতেরই হাতে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উলটপুরাণ। একদা রাজ্যের ক্ষমতাশালী ও তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের আকাশে এখন গভীর সংকটের মেঘ। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর পূর্বের সেই দাপট ও নিরাপত্তা আর নেই। যে আদালত এবং বিচারপতিদের তিনি একসময় প্রকাশ্য জনসভায় নাম করে আক্রমণ করেছিলেন, আজ গ্রেফতারি তথা ‘শ্রীঘর যাত্রা’ এড়াতে সেই আদালতের রক্ষাকবচই তাঁর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন কেলেঙ্কারি ও অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কার্যত মামলার পাহাড় জমে উঠেছে।
নিয়োগ ও কয়লা পাচারের সাঁড়াশি চাপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় দুটি দুর্নীতির অভিযোগ হলো কয়লা পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ECL) খনি থেকে কোটি কোটি টাকার কয়লা চুরির মামলায় বেশ কয়েক বছর ধরেই ইডির নজরে রয়েছেন তিনি। এই মামলায় তাঁর ঘনিষ্ঠরা গ্রেফতার হয়েছেন এবং সস্ত্রীক অভিষেককেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করা নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। এই মামলায় বর্তমানে তাঁর কোনো আইনি রক্ষাকবচ নেই। ফলে ইডির সমনে হাজিরা দেওয়া ছাড়া তাঁর কাছে কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
সই জালিয়াতি থেকে উসকানিমূলক মন্তব্যের বেড়াজাল
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা বাছাইকে কেন্দ্র করে একটি সই জালিয়াতির ঘটনায় নাম জড়ায় অভিষেকের। এই মামলায় সিআইডির তলব এড়াতে তিনি আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তিনি ভবানীভবনে হাজিরা দিলেও তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলাতেও সিআইডি তাঁকে তলব করেছে। এর পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং ২০১৮ সালের একটি মারধরের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
ত্রাণ দুর্নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব
আইনি জটিলতার এখানেই শেষ নয়। আমফানের ত্রাণ তহবিলের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। একের পর এক দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলার এই সাঁড়াশি চাপ মূলত তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা হ্রাস এবং রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণেই তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এক সময়ের দাপুটে নেতার এই আইনি সংকট কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে না, বরং তাঁর রাজনৈতিক দলকেও এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন আদালতই নির্ধারণ করবে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য।
