‘মমতা সম্পূর্ণ মিথ্যে বলছেন’ দাবি তুলে তৃণমূল নেত্রীকে আইনি নোটিস কাকলি-পুত্রের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের আবহে এবার খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস পাঠালেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র এবং সোনালি গুহকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মানহানির অভিযোগ ও কারণ
সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দলের এক সাংসদ বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংসদীয় দল ভাঙার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ওই সাংসদ বারাসাত আসনে তাঁর ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন, যা দেওয়া হয়নি বলেই এই ক্ষোভ। যদিও মমতা কারও নাম প্রকাশ করেননি, তবে ‘কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা’র উল্লেখ থাকায় তা কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে দাবি বৈদ্যনাথের। দলনেত্রীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘একশো শতাংশ মিথ্যে’ আখ্যা দিয়ে বৈদ্যনাথ জানিয়েছেন, তিনি বিদেশে একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং টিকিটের কোনো আবেদন তিনি কখনোই করেননি।
দলের অন্দরে ফাটল ও সম্ভাব্য প্রভাব
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে ফাটল ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। লোকসভায় বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খোদ দলনেত্রীকে সরাসরি আইনি নোটিস পাঠানোর এই নজিরবিহীন ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চরম আকার দিল। এর ফলে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিবিরের সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল, যা আগামী দিনে তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতি ও দলের সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
