ট্রাম্পের ঘোষণা বনাম তেহরানের বিক্ষোভ, রবিবারেও কি অধরাই থাকছে শান্তিচুক্তি? – এবেলা

ট্রাম্পের ঘোষণা বনাম তেহরানের বিক্ষোভ, রবিবারেও কি অধরাই থাকছে শান্তিচুক্তি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী রবিবারই ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা থাকলেও, তেহরানের রাস্তায় তীব্র বিক্ষোভ এবং সরকারের ভিন্ন সুর সেই সম্ভাবনাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ট্রাম্পের দাবিকে ঘিরে একদিকে যখন আন্তর্জাতিক মহলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা চুক্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চুক্তির টানাপোড়েন ও ট্রাম্পের তড়িঘড়ি কৌশল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে রবিবারই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই হতে চলেছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই ঘোষণায় সায় দিয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে, রবিবার ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন হওয়ায় এই চুক্তিকে তিনি নিজের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক উপহার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। তবে তেহরান এই তাড়াহুড়োকে ইতিবাচকভাবে দেখেনি। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমায়েলি বাঘেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তি রবিবার হচ্ছে না, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই একতরফা চাপ তেহরানের নীতিনির্ধারকদের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে।

অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও তেহরানের উভয়সংকট

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র মার্কিন ও ইজরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিদেশ মন্ত্রকের সামনে জমায়েত হয়ে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পদত্যাগ ও নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। মূলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের পূর্বতন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে। রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর সমর্থনে সাধারণ মানুষ এখন যেকোনো ধরনের আপোসের বিরোধিতা করছে।

এই গণবিক্ষোভ তেহরানকে এক কঠিন উভয়সংকটে ফেলেছে। একদিকে, গত কয়েক মাসের মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর বিপুল ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে এই চুক্তি অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের আগে আমেরিকার শর্তে চুক্তি সই করলে তা দেশের ভেতরে সরকারকে চরম জনরোষের মুখে দাঁড় করাতে পারে। ফলে সামরিক ক্ষতিপূরণ ও জনমানসের আবেগের ভারসাম্য বজায় রেখে তেহরান আগামী দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *