নেতাদের লক্ষ্য করে উড়ে আসছে ডিম, রোষের মুখে পড়ে নাজেহাল পুলিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার এক অভিনব প্রবণতা শুরু হয়েছে। নিমতা থেকে সোনারপুর, কলকাতা থেকে নৈহাটি— সর্বত্রই নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হলেই বা জনসমক্ষে এলেই এই ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন। তবে জনতার এই রোষের মূল্য চোকাতে হচ্ছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের। নেতাদের দিকে ধেয়ে আসা পচা ডিমের ঘায়ে ও উৎকট গন্ধে কর্তব্যরত উর্দিধারীদের কার্যত নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে।
বিক্ষোভের নয়া হাতিয়ার ডিম
ইতিহাস ঘাঁটলে প্রাচীন রোম বা বিলেতের রাজনীতিতে শাসককে লক্ষ্য করে শালগম বা ডিম ছোড়ার রেওয়াজ থাকলেও, এ রাজ্যে বিক্ষোভের মাধ্যম হিসেবে ডিমের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে নতুন। মনোবিদদের মতে, ডিম সহজলভ্য এবং প্রাণঘাতী নয়, অথচ তা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে জনসমক্ষে চরম হেয় ও পরিহাসের পাত্র করে তোলে। তাই সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিতে একেই প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে জয়প্রকাশ মজুমদার, সব্যসাচী দত্তের মতো নেতারা ইতিমধ্যেই এই বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। হুজুগের বশে হোক বা পূর্বপরিকল্পিতভাবে, এই প্রবণতা বর্তমানে ছোঁয়াচে রোগের মতো গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
নাজেহাল পুলিশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
অভিযুক্তদের শারীরিক পরীক্ষা বা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষকে ঠেকানো পুলিশের পক্ষে প্রায় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলস্বরূপ, নেতাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ছোড়া ডিমের বড় অংশ গিয়ে পড়ছে নিরপরাধ পুলিশকর্মীদের গায়ে। ঢাল বা হেলমেট ব্যবহার করেও এই আঁশটে গন্ধ ও তরলের হাত থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলছে না। পুলিশ আধিকারিকরাও একে পেশাগত ঝঞ্ঝাট হিসেবেই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে কাকতালীয়ভাবে গত কয়েক সপ্তাহে মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় বাজারে ডিমের দামও বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিমের এই মূল্যবৃদ্ধিই এখন পুলিশকর্মীদের একমাত্র আশার আলো। দাম বাড়লে মানুষের ডিম ছোড়ার এই উন্মাদনায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়বে বলে মনে করছেন প্রতিদিন ডিম-বর্ষণের শিকার হওয়া অসহায় উর্দিধারীরা।
