নদিয়া সীমান্তে পুশব্যাক বিতর্ক ঘিরে চরম উত্তেজনা, জিরো পয়েন্টে অনিশ্চিত ১২ জনের ভবিষ্যৎ! – এবেলা

নদিয়া সীমান্তে পুশব্যাক বিতর্ক ঘিরে চরম উত্তেজনা, জিরো পয়েন্টে অনিশ্চিত ১২ জনের ভবিষ্যৎ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানার রানিনগর সীমান্তে ১২ জন নাগরিককে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তীব্র সীমান্ত টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পুশব্যাকের অভিযোগ ও পাল্টা দাবি ঘিরে গত দু’দিন ধরে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে পরপর দুটি ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও কোনো রফাসূত্র মেলেনি। এর ফলে চার মহিলা ও চার শিশুসহ মোট ১২ জনের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পাল্টাপাল্টি দাবি ও সীমান্ত সংঘাতের কারণ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কাঁটাতারের গেট খুলে এই ১২ জনকে বাংলাদেশের সীমানায় ঠেলে দিয়েছে। বিজিবির দাবি, এই ব্যক্তিরা আদতে ভারতীয় নাগরিক এবং তাঁদের অবিলম্বে ভারতে ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে, বিএসএফ এই সমস্ত অভিযোগ ও দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর স্পষ্ট বার্তা, রানিনগর সীমান্ত দিয়ে গত কয়েকদিনে কাউকেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়নি, ফলে কাউকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই মর্যাদার লড়াইয়ের জেরে ভারতের রানিনগর ও বাংলাদেশের প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারের কাছে মাথাভাঙা নদীর তীরে জিরো পয়েন্ট এলাকায় এক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সম্ভাব্য প্রভাব

অতীতে একাধিক পুশব্যাকের ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলেও কোনো বড় সুরাহা হয়নি। তবে এবারের ঘটনায় ওপার সীমান্ত বেশ মরিয়া অবস্থান নিয়েছে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি-কে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এই অনড় অবস্থানের কারণে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হতে পারে, যা সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিএসএফ জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের খাতিরে এবং প্রতিবেশী দেশের আপত্তির কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *