বিজয়নকে আলিঙ্গনে নারাজ রাহুল, ইন্ডিয়া জোটে ফাটল আর বিজেপির কটাক্ষ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। কংগ্রেস এবং সিপিএম জাতীয় স্তরে জোটসঙ্গী হলেও কেরলের রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা তাদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়া জোটের এক বৈঠকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রয়োজন থাকলেও নিজস্ব রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে তাঁর পক্ষে আলিঙ্গন করা সম্ভব নয়। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শরিক দল সিপিএমের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা জোটের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বামেদের ক্ষোভ ও পাল্টা জবাব
রাহুল গান্ধীর এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন খোদ পিনারাই বিজয়ন এবং সিপিএমের প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাট। বিজয়নের মতে, তাঁদের আলিঙ্গনের কোনো প্রয়োজন নেই এবং শুধু করমর্দনই যথেষ্ট। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রাহুলের দেওয়া এই রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে, যা তাঁর মতে জোটের সংহতির পরিপন্থী। অন্যদিকে, বৃন্দা কারাটও কংগ্রেস নেতার এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্ষোভপ্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, কমিউনিস্টদের আলিঙ্গনের দরকার নেই, তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে জোটের অন্যান্য নেতাদের সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিত।
সুযোগ নিচ্ছে বিজেপি ও সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেস ও সিপিএমের এই প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ জাতীয় রাজনীতিতে ইন্ডিয়া জোটের স্ববিরোধিতাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। রাজ্য স্তরের তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতা এবং জাতীয় স্তরের জোটের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে না পারাই এই দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ। এই টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের মুখপাত্র শেহজাদ পুণাওয়ালা কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, এই দ্বন্দ্ব প্রমাণ করে যে ইন্ডিয়া জোটের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, এটি কেবল ছবি তোলার একটি মঞ্চ মাত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিকদের মধ্যে এমন প্রকাশ্য মতানৈক্য চলতে থাকলে আগামী দিনে জোটের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের লক্ষ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
