সামান্য শারীরিক সমস্যাতেই গুগলে রোগ খুঁজছেন ৭০ শতাংশ মানুষ! বাড়ছে মারাত্মক সাইবারকন্ড্রিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সামান্য শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ইন্টারনেটে লক্ষণ মিলিয়ে দেখার প্রবণতা এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই কোনো শারীরিক সমস্যা হলে প্রথমে গুগলে সার্চ করে রোগের কারণ খোঁজেন। সামান্য মাথা ব্যথা বা জ্বরের মতো উপসর্গ লিখে সার্চ করলে অনেক সময়ই গুগল ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত দেয়। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন এবং ‘সাইবারকন্ড্রিয়া’ বা ইন্টারনেটে রোগ খোঁজার এক অসুস্থ নেশায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
গুগল-নির্ভরতার নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
এই প্রবণতার পেছনে প্রযুক্তি এবং চিকিৎসাব্যবস্থা উভয়েরই দায় রয়েছে। গুগলের অ্যালগরিদম মূলত ওয়েবসাইটগুলোতে ‘ক্লিক’ বাড়ানোর জন্য সাধারণ উপসর্গের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জটিল ও ভীতিকর রোগের ফলাফলগুলো আগে প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, হাসপাতালে রোগীর দীর্ঘ লাইন ও চিকিৎসকদের সময়ের অভাবে ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে সঠিক যোগাযোগের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। রোগীরা তাদের সব প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে ইন্টারনেটের ওপর ভরসা করছেন। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থায়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, গুগলের তথ্য দেখে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং প্রায় ৩০ শতাংশ রোগী চিকিৎসকের কথার সঙ্গে ইন্টারনেটের তথ্য না মিললে ডাক্তার বদলে ফেলেন। ফলস্বরূপ, চিকিৎসকের প্রতি রোগীর আস্থার জায়গাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ
ইন্টারনেট থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক সাধারণ ধারণা নেওয়া যেতে পারে, তবে কোনোভাবেই নিজে থেকে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা শুরু করা উচিত নয়। তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য এবং স্বীকৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ওপর ভরসা রাখা জরুরি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করে ইন্টারনেটে সার্চ না করে সরাসরি হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শই চূড়ান্ত, ইন্টারনেট কখনোই একজন চিকিৎসকের দীর্ঘ পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার বিকল্প হতে পারে না।
