খান স্যরের কোচিংয়ে হামলায় অভিযুক্তের রহস্যমৃত্যু! নেপালে উদ্ধার রৌশন আনন্দের ভাইয়ের দেহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের রাজধানী পটনায় জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যরের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের রহস্যজনক মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে নেপালে ওই যুবকের দেহ উদ্ধার হয়। মৃত যুবকের নাম প্রিন্স। তিনি খান স্যরের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জ্ঞানবিন্দু কোচিং সেন্টারের কর্ণধার রৌশন আনন্দের ভাই। জানা গিয়েছে, প্রিন্স তাঁর ছয় বন্ধুর সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন। এই মৃত্যুর খবর পেয়ে ইতোমধ্যেই নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে তাঁর পরিবার।
দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত
পটনার এই দুই নামজাদা কোচিং সেন্টারের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সংঘাতের ইতিহাস বেশ পুরনো। এর আগে ২০২১ সালেও খান স্যর ওরফে ফয়সল খানের কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং সেই সময় তাণ্ডব চালানোর মূল অভিযোগ ওঠে এই প্রিন্সের বিরুদ্ধেই। পাশাপাশি খান স্যরের কর্মীদের মারধর ও বোমা হামলার অভিযোগও সামনে আসে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে রৌশন আনন্দ পাল্টা অভিযোগ করেন যে, তাঁর কোচিং সেন্টারে খান স্যরের মদতে হামলা চালানো হয়েছে। এই দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে গত ২ জুন। ওই দিন দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ব্যাপক হাতাহাতি ও পরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করে। ওই দিনের ঘটনাতেই খান স্যরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় এবং জ্ঞানবিন্দু কোচিংয়ের শিক্ষক রৌশন আনন্দকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি বর্তমানে জেলবন্দি।
মৃত্যুরহস্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
দুই বৃহৎ কোচিং সেন্টারের মধ্যে যখন আইনি ও পেশিশক্তির লড়াই তুঙ্গে এবং রৌশন আনন্দ নিজে যখন পুলিশি হেফাজতে, ঠিক সেই সময়েই তাঁর ভাইয়ের এই রহস্যমৃত্যু পুরো ঘটনাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে নেপালে গিয়ে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে প্রিন্সের মৃত্যু হলো, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশ ও আইনজীবী মহলে। এই ঘটনা পটনার কোচিং ব্যবসায় চলমান অপরাধমূলক প্রতিযোগিতার অন্ধকার দিকটিকে ফের প্রকাশ্যে নিয়ে এল। এই রহস্যমৃত্যুর জেরে দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আগামী দিনে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
