বাজেটেই মিটবে বকেয়া ডিএর ক্ষোভ, রাজ্য সরকারি কর্মীদের চোখ এবার ২২ জুনের দিকে – এবেলা

বাজেটেই মিটবে বকেয়া ডিএর ক্ষোভ, রাজ্য সরকারি কর্মীদের চোখ এবার ২২ জুনের দিকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) প্রাপ্তি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী ২২ জুন রাজ্যের নতুন বাজেট পেশ হতে চলেছে, আর এই বাজেটকে কেন্দ্র করেই এখন বুক বাঁধছেন লাখ লাখ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক আশ্বাস এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণার পর রাজ্য সরকারি মহলে প্রত্যাশার পারদ ক্রমশ চড়ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও বকেয়া মেটানোর রোডম্যাপ

সম্প্রতি রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতাধীন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ২২ জুনের রাজ্য বাজেটে বড় ধরনের ঘোষণা আসতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগীর বকেয়া ডিএ আংশিকভাবে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি পাওনাটুকুও পর্যায়ক্রমে মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত এই জট সম্পূর্ণ কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সপ্তম পে কমিশন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজ্যে ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে গেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কমিশনের সুপারিশ আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে কর্মচারীদের মূল নজর এখন কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএর ফারাক ঘোচানোর দিকে। লোকসভা নির্বাচনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার তাদের আইনসম্মত স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে যদি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এককালীন বা সুনির্দিষ্ট ধাপে মেটানোর ঘোষণা আসে, তবে তা রাজ্য কোষাগারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করবে। তা সত্ত্বেও, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অসন্তোষের অবসান ঘটলে সরকারি কাজে গতিশীলতা ফিরবে এবং কর্মচারীদের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আগামী ২২ জুনের বাজেট অধিবেশনের দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *