কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেকের তীব্র সংঘাত, সামলাতে আসরে খোদ মমতা! – এবেলা

কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেকের তীব্র সংঘাত, সামলাতে আসরে খোদ মমতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এমনিতেই দলের অভ্যন্তরে চরম টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ও ধারাবাহিক দলবদলের আবহে এবার খোদ কালীঘাটের অন্দরেই প্রকাশ্যে এল শীর্ষ নেতাদের অন্তর্কলহ। শনিবার রাতে দলীয় কর্মসমিতির বৈঠকে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন কুণাল ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বিবাদ থামাতে শেষমেশ হস্তক্ষেপ করতে হয় খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

তর্কাতর্কির মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট
দলীয় সূত্রে খবর, শনিবারের বৈঠকে দলের পুরনো ও আবেগপ্রবণ কর্মীদের জন্য একটি কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই আলোচনা আগামী সপ্তাহে স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিলে আপত্তি জানান বর্তমান উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কুণাল ঘোষ। তিনি দ্রুত কমিটির কাজ শেষ করার ওপর জোর দেন। এই মতানৈক্যের মাঝেই কুণাল মন্তব্য করেন যে আর লেবু না কচলাতে, কারণ তা তেতো হয়ে যাবে। মূলত এই মন্তব্য ঘিরেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

আপ্ত সহায়ক ইস্যুতে সংঘাত ও শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ
বৈঠক শেষের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিষেক সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কুণাল তাঁকে এবং তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিতকে আক্রমণ ও অপমান করেছেন। জবাবে কুণাল স্পষ্ট জানান যে সুমিত দলের কেউ নন, তাই তাঁকে সমর্থন বা রক্ষা করার কোনো দায় তাঁর নেই। দলের মুখপাত্র হিসেবে তিনি কেবল দলের হয়েই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। এই তর্কাতর্কি এতটাই চরম আকার ধারণ করে যে বাইরে থেকেও নেতাদের উচ্চস্বরে চিৎকার শোনা যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’পক্ষকে শান্ত করতে মমতা সবাইকে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করার নির্দেশ দেন।

এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা দলের অভ্যন্তরে চরম সমন্বয়হীনতা ও ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে নির্বাচনী বিপর্যয় এবং অন্যদিকে শীর্ষ নেতাদের এমন বেনজির দ্বন্দ্বে দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গভীর এই সংকটের মুহূর্তে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং ঐক্য ফিরিয়ে আনাই এখন শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *