বিদ্রোহীদের ছাঁটাই করে আনুগত্যের পুরষ্কার, বড় রদবদলে কুণাল-অর্ণবের হাতে তৃণমূলের ব্যাটন – এবেলা

বিদ্রোহীদের ছাঁটাই করে আনুগত্যের পুরষ্কার, বড় রদবদলে কুণাল-অর্ণবের হাতে তৃণমূলের ব্যাটন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভোটের ভরাডুবির পর চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়ে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদলের পথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বিদ্রোহ দমন এবং ‘সুসময়ের বন্ধুদের’ দলবদল রুখতে একযোগে একাধিক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জোড়াফুল শিবির। দলের দুঃসময়েও চরম আনুগত্য বজায় রাখার পুরস্কার হিসেবে এবার উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতির বড় দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের হাতে। অন্যদিকে, যুব তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বেও এসেছে বড় চমক। বিদায়ী যুব সভাপতি সায়নী ঘোষকে সরিয়ে সেই জায়গায় আনা হয়েছে অভিনেতা অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বিদ্রোহী সুদীপের বিজেপিমুখী যাত্রা ও কুণালের উত্থান

বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর থেকেই উত্তর কলকাতার বিদায়ী জেলা সভাপতি তথা প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। অবশেষে শনিবার সকালে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সান্নিধ্যে দেখা যায় তাঁকে। সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে চড়ে প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক দলবদলের প্রক্রিয়া সারেন সুদীপ। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে যুক্ত থাকা এই শীর্ষ নেতার আকস্মিক দলবদলের পরেই ক্ষুব্ধ শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থানের পরই উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে কুণাল ঘোষের কাঁধে। অতীতে সুদীপের সঙ্গে কুণালের রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং তার জেরে কুণালের নেতৃত্বের রোষে পড়ার ইতিহাস সর্বজনবিদিত। তবে দলের এই চরম দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কুণাল ঘোষ যেভাবে লড়াই চালিয়ে গেছেন, দল মূলত তাঁর সেই একনিষ্ঠ আনুগত্যকেই পুরস্কৃত করল।

যুব সংগঠনেও বড় রদবদল

শুধু উত্তর কলকাতাই নয়, দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ যুব সংগঠনেও বড়সড় পরিবর্তন এনেছে তৃণমূল। যুব তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সায়নী ঘোষকে। তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে টেলিভিশন দুনিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দীর্ঘদিন ধরে যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা অর্ণব মূলত সুব্রত বক্সি ও মমতাপন্থী লবিতেই বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে পরিচিত। সায়নীর বিকল্প হিসেবে এই তরুণ ও অনুগত মুখকে সামনে এনে যুব সমাজকে নতুন বার্তা দিতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার অলিন্দে থাকা সুবিধাবাদীদের ঝেড়ে ফেলে খাঁটি অনুগতদের সামনে আনাই ছিল তৃণমূলের এই আকস্মিক রদবদলের মূল কারণ। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগ ও বিদ্রোহের মুখে দাঁড়িয়ে দল যে আপস করতে রাজি নয়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করা হলো। কুণাল ঘোষ এবং অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লড়াকু ও বিশ্বস্ত মুখদের নেতৃত্বে নিয়ে আসায় দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনই আগামী দিনে নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই রদবদল অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *