নারী শক্তির অনন্য নজির, পুরুলিয়া লোক আদালতে একদিনেই মিটল আড়াই হাজারের বেশি মামলা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আইনি জটিলতা আর দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত বিচার পৌঁছে দিতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল পুরুলিয়া জেলা আদালত। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আইনি ডিগ্রি ছাড়াই সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত সাতজন নারী একদিনের জন্য বসলেন ‘বিচারক’-এর আসনে। লোক আদালতের মেম্বার জাজ হিসেবে পুরুলিয়া আদালতের বিচারকদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁরা একদিনেই নিষ্পত্তি করলেন ২ হাজার ৭৮১টি মামলা। শুধু মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিয়াই নয়, একদিনে জরিমানা ও বকেয়া বাবদ আদায় হলো ৭৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৮০ টাকা, যা এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নারী শক্তির হাত ধরে বিচার প্রক্রিয়ায় গতি
জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় প্রতি বছরের মতো এবারও পুরুলিয়া জেলা আদালত চত্বরে বসেছিল এই বিশেষ লোক আদালত। তবে এবারের মূল আকর্ষণ ছিল বেঞ্চ পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ। মোট আটটি বেঞ্চের মধ্যে সাতটি বেঞ্চেই পুরুষ বিচারকদের পাশাপাশি মেম্বার জাজ বা সহযোগী বিচারকের আসনে ছিলেন সাতজন বিশিষ্ট মহিলা। তাঁরা হলেন সমাজসেবী সুদেবী দাঁ এবং শিক্ষিকা সুস্মিতা রায়চৌধুরী, কোয়েল মারান্ডি, কৃষ্ণা সাহা, সমাপ্তি মল্লিক, ঝুমা মন্ডল ও শুভ্রা মাহাতো। সমাজসেবা ও শিক্ষাক্ষেত্রের এই প্রতিনিধিরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যাঙ্ক ঋণ এবং বিএসএনএল-এর মতো জটিল দেওয়ানি মামলার দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে ফেলেন।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাড়ছে আমজনতার ভরসা
সাধারণত ‘তারিখ পে তারিখ’-এর চক্করে পড়ে সাধারণ মানুষ যখন মূল ধারার বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন, ঠিক তখনই লোক আদালতের এই অভাবনীয় সাফল্য বিচারপ্রার্থীদের নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। আদালতের মুখ্য বিচারক সন্দীপ চৌধুরী জানান, একের পর এক তারিখ পড়ার কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ হন, কিন্তু লোক আদালতে কোনো খরচ ছাড়াই অত্যন্ত দ্রুত সিভিল বা দেওয়ানি মামলার সমাধান সম্ভব। এখানে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে জরিমানা বা বকেয়া মেটানোর সুযোগ থাকে, এমনকি প্রয়োজনে সহজ কিস্তি বা ইএমআই-এর সুবিধাও দেওয়া হয়।
মার্চ মাসে বিশেষ কারণে লোক আদালত না হওয়ায় এবার জুন মাসের এই আদালতে প্রায় ১২ হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল। মোট ৪ হাজার ৭২৪টি মামলা নথিভুক্ত হলেও অর্ধেকের বেশি মামলার তাৎক্ষণিক সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সমাজের লব্ধপ্রতিষ্ঠ নারীদের বিচার প্রক্রিয়ায় শামিল করার এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াবে, অন্যদিকে তেমনই আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বকেয়া মামলার বোঝাও অনেকাংশে লাঘব করবে।
