মধ্যপ্রাচ্যে অবশেষে শান্তির সুবাতাস, রবিবারই ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই করছে আমেরিকা! – এবেলা

মধ্যপ্রাচ্যে অবশেষে শান্তির সুবাতাস, রবিবারই ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই করছে আমেরিকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘদিন ধরে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের মেঘ কাটিয়ে অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। রবিবার ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সই করতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বড় ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ অবরুদ্ধ থাকার পর পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈল ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই সমঝোতা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক নতুন মোড় ঘটাতে চলেছে।

পরমাণু কর্মসূচিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নতুন চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে করা জেসিপিওএ (JCPOA) চুক্তির তুলনায় এই নতুন চুক্তিটি সম্পূর্ণ বিপরীত এবং অনেক বেশি কঠোর। পূর্ববর্তী চুক্তিতে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়টি শিথিল ছিল দাবি করে ট্রাম্প জানান, নতুন চুক্তির অধীনে ইরানের পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট পারমাণবিক উপাদানগুলো মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের সাহায্যে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পরমাণু হুমকি দূর করতেই এই সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও ভারতের ওপর প্রভাব

আমেরিকা ও ইরানের এই চুক্তির সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী অত্যন্ত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হয়। এটি সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে রেখেছিল এবং মার্কিন রণতরীগুলোও এলাকাটি ঘিরে রেখেছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত ভারতসহ গোটা বিশ্বের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসছে, কারণ ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *