“অভিষেকের হাত ছাড়লে নেত্রী মমতা”,কেন এমন বার্তা দিলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক? – এবেলা

“অভিষেকের হাত ছাড়লে নেত্রী মমতা”,কেন এমন বার্তা দিলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নির্বাচনী ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হওয়া অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার চরম আকার ধারণ করল। দলীয় স্তরে বিভাজন স্পষ্ট করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি শর্ত ছুঁড়ে দিল দলেরই বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে গঠিত ‘আসল তৃণমূল’। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়লে তবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মানবেন তাঁরা, অন্যথায় দলীয় প্রতীক নিয়ে নতুন দল গড়বেন বিদ্রোহীরা।

মমতাকে চরম শর্ত

বিধানসভায় ইতিমধ্যে ৬৪ জন বিধায়ক নিয়ে আলাদা ফ্রন্ট গঠন করেছেন বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই বিরোধী শিবিরের মুখ্য সচেতক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁদের মূল আপত্তি। অভিষেককে সরিয়ে দিলে তাঁরা মমতার নেতৃত্বেই কাজ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু নেত্রী যদি এই শর্ত না মানেন, তবে তাঁরা খোদ জোড়াফুল প্রতীক দাবি করে নতুন তৃণমূল গঠন করতে বাধ্য হবেন।

ভাঙনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

গত ৪ মে-র পর থেকে নির্বাচনে হার, পরিষদীয় নেতা বাছাই নিয়ে অসন্তোষ এবং সই-জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে এই মহাবিদ্রোহের সূত্রপাত। বিধানসভার গণ্ডি পেরিয়ে এই বিদ্রোহের আঁচ পৌঁছেছে সংসদেও। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি অনুযায়ী, ২২ জন সাংসদও আলাদা ফ্রন্ট গড়ার পথে হাঁটছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা রুখতেই বিদ্রোহীরা এমন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই শর্তের মাধ্যমে তাঁরা একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর প্রবল মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন, তেমনই অভিষেক-মুক্ত একটি নিজস্ব তৃণমূল কাঠামো টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টাও চালাচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *