হরমুজে ১০৭ দিন ধরে আটকে ৫৬২ ভারতীয় নাবিক, মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার – এবেলা

হরমুজে ১০৭ দিন ধরে আটকে ৫৬২ ভারতীয় নাবিক, মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীতে গত ১০৭ দিন ধরে তৈরি হয়েছে এক চরম মানবিক সংকট। ভারতের জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এই অবরুদ্ধ জলসীমায় ভারতীয় পতাকাবাহী ১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজে আটকে রয়েছেন ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে গভীর সমুদ্রে চরম ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। এর মধ্যেই এমটি সেলেস্টিয়াল নামের একটি বাণিজ্যতরীতে অসুস্থ হয়ে নিশান্ত উরথানাথান নামে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে।

ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, মৃত নাবিকের দেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে তাঁরা তৎপর। জাহাজটি বর্তমানে ওমানের দুকম বন্দরে রয়েছে এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাহাজের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও নিশান্তের পরিবারের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় আরও তিন ভারতীয় নাবিকের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা আটকে থাকা বাকি নাবিক ও তাঁদের পরিবারের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংকটের কারণ ও ভৌগোলিক অবস্থান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। জাহাজ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটকে থাকা ৫৬২ জন নাবিকের মধ্যে ৩২৯ জন হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম অংশে এবং বাকি ২৩৩ জন এর পূর্ব দিকে অবস্থিত ওমান উপসাগরে আটকা পড়েছেন। দীর্ঘ অবরুদ্ধ দশার কারণে জাহাজগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও চিকিৎসার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

বাণিজ্যিক প্রভাব ও শান্তির ইঙ্গিত

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হতে চলেছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং অবসান ঘটবে মারণ যুদ্ধের। এই শান্তিচুক্তির ওপরই এখন নির্ভর করছে আটকে থাকা শত শত ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং বিশ্ব বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *