ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন-ইরান ঐতিহাসিক শান্তি সমঝোতার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিনের তীব্র সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তির আলো দেখছে মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বার্তার পর রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুই দেশ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে। প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সম্পন্ন করবে।
২৫ বিলিয়ন ডলারের ছাড় ও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ
এই সমঝোতার খসড়ায় মূলত তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ইরান এই নৌপথ থেকে সমস্ত বাধা সরিয়ে নেবে এবং আমেরিকাও এর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে স্বাধীন নৌচলাচল নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় তেল বিক্রি করার সুযোগ পাবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমেরিকা ইরানের বাজেয়াপ্ত করে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ তেহরানকে ফেরত দেবে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত
এই বিশাল অর্থনৈতিক সুবিধার বিপরীতে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে। তেহরানকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ রাখবে। একই সঙ্গে নতুন কোনো সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা যাবে না। তবে ওয়াশিংটন ইরানের শান্তিপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহায়তায় ইরানকে এই খাতে সহযোগিতা করবে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
সমঝোতার প্রাথমিক খসড়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। ভবিষ্যতে দুই দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে একযোগে কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক হবে। তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমেরিকা তার প্রধান মিত্রশক্তি সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবে। আপাতত দুই দেশের সরকারই এই খসড়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
