প্রেমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড! পুলিশ স্টেশনের ভেতরেই জামাইয়ের সামনে মেয়েকে ছুরি মেরে খুন বাবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বান্দা (উত্তরপ্রদেশ): নিজের পছন্দের মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করার অপরাধে এক জন্মদাতা বাবার নৃশংস রূপ দেখল দেশ। খোদ পুলিশ স্টেশনের ভেতরে, পুলিশ কর্মী এবং স্বামীর চোখের সামনে মেয়েকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করল বাবা। উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলার বদৌসা থানার এই হাড়হিম করা ঘটনায় শিউরে উঠছেন সকলে। ঘটনার জেরে থানা চত্বর মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভেসে যায়।
আসল ঘটনাটি কী?
বদৌসা এলাকার বাসিন্দা সত্যকুমারের মেয়ে শিবানী (১৯) এবং তাঁর প্রতিবেশী ললিত বর্মা (২০) গত কিছু বছর ধরে একে অপরকে ভালোবাসতেন। কিন্তু শিবানীর পরিবার এই সম্পর্ক কোনওভাবেই মেনে নেয়নি। পরিবারের অমতেই গত ১৮ মে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান শিবানী ও ললিত। এরপর বন্ধুদের সাহায্যে বিয়ে করে লুকিয়ে সংসার করতে শুরু করেন তাঁরা।
এদিকে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ায় থানায় ডায়েরি করেন বাবা সত্যকুমার। পুলিশ মোবাইল লোকেশন এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গত ১২ জুন এই প্রেমিক যুগলের সন্ধান পায়। এরপর কাউন্সেলিংয়ের জন্য তাঁদের এবং দুই পরিবারের সদস্যদের বদৌসা থানায় ডেকে পাঠানো হয়।
থানার ভেতরেই রক্তাক্ত হামলা:
পুলিশের উপস্থিতিতে যখন দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল, তখনই শিবানী তাঁর বাবা-মায়ের সাথে ফিরে যেতে স্পষ্ট অস্বীকার করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভালোবেসে যাকে বিয়ে করেছেন, সেই স্বামী ললিতের সাথেই তিনি থাকবেন। মেয়ের এই কথা শুনে রাগে অন্ধ হয়ে যান বাবা সত্যকুমার। পুলিশের সামনেই নিজের জামার ভেতরে লুকিয়ে রাখা একটি ধারালো ছুরি বের করে শিবানীর পেটে একের পর এক কোপ বসাতে শুরু করেন তিনি।
থানার ভেতরে আচমকা এই ভয়ঙ্কর হামলায় হতভম্ব হয়ে যান পুলিশ কর্মীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিবানী। পুলিশ দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিজের চোখের সামনে স্ত্রীর এই নৃশংস পরিণতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বামী ললিত।
খুনের মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার বাবা:
এই রোমহর্ষক ঘটনা প্রসঙ্গে জেলার পুলিশ সুপার (SP) পলাশ বনসল জানিয়েছেন, থানায় দুই পরিবারের আলোচনার মাঝেই বাবার অতর্কিত হামলায় যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা সত্যকুমারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তাঁকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুবতীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
