তৃণমূলে মহাধস, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে ত্রিপুরার আঞ্চলিক দলে যাচ্ছেন বিদ্রোহীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে এবার ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র হাত ধরতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। লোকসভায় সম্পূর্ণ পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের খবর, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরে বর্তমানে ২০ থেকে ২২ জন সাংসদ রয়েছেন। এই দলবদলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁরা দিল্লির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থনের কথাও জানাতে পারেন। ইতিমধ্যে শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির বিদায়ী ও বর্তমান হেভিওয়েট নেতৃত্ব এই যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনি জটিলতা এড়ানোর কৌশল
তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙনের আবহ তৈরি হতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী সাংসদ গোষ্ঠীকে কোনো পৃথক স্বীকৃতি বা সংসদীয় সুবিধা না দেওয়ার আর্জি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিপন্থী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি বেড়াজাল ও সাংসদ পদ খারিজের ঝুঁকি এড়াতেই বিদ্রোহীরা ত্রিপুরার দল NCPI-এর ছত্রছায়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নতুন কোনো গ্রুপ তৈরির চেয়ে খাতায়-কলমে স্বীকৃত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা থেকে রেহাই পাওয়া সহজ হয়। মূলত ত্রিপুরার দল হলেও আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে NCPI-এর অল্পবিস্তর সংগঠন রয়েছে এবং তারা অতীতে বিধানসভা নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ফলে এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের আইনি অবস্থান সুরক্ষিত রাখাই বিদ্রোহীদের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় রাজনীতি ও সংসদীয় সমীকরণে প্রভাব
তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলের একাংশের ক্ষোভ এই বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ হিসেবে কাজ করেছে। একইসঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পারিবারিক স্তরে আইনি নোটিশের প্রস্তুতি দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এই গণ-দলবদলের সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। লোকসভায় একটি প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক দলের এত বিপুল সংখ্যক সাংসদের অবস্থান পরিবর্তন শুধু পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের জন্যই বড় ধাক্কা নয়, বরং দিল্লির সংসদীয় সমীকরণেও বড়সড় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী এনডিএ শিবিরকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিলে কেন্দ্রের শাসক জোটের হাত আরও শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভারসাম্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে।
