শ্রীঘরে ত্রাস তাও থামছে না সন্দেশখালির রক্তচক্ষু! ভেড়ি দখলে ফের শাহজাহান বাহিনীর তাণ্ডব – এবেলা

শ্রীঘরে ত্রাস তাও থামছে না সন্দেশখালির রক্তচক্ষু! ভেড়ি দখলে ফের শাহজাহান বাহিনীর তাণ্ডব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহান বর্তমানে শ্রীঘরে থাকলেও এলাকায় তার বাহিনীর সন্ত্রাস থামার লক্ষণ নেই। সোমবার রাতে সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের সরবেড়িয়ার ছোট আজগারা গ্রামে এক ভেড়ি মালিকের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা নতুন করে আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। রাতের অন্ধকারে একা পেয়ে জোনাব মল্লিক নামের ওই ভেড়ি মালিককে বেধড়ক মারধর করে জলে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে বাইকসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আক্রান্ত ভেড়ি মালিকের স্পষ্ট দাবি, হামলাকারীরা সকলেই শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ শাগরেদ। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ভেড়িটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল জাকির সর্দার, বাবলু মোল্লা, সফিকুর মোল্লা, কদ্দুস মোল্লা ও ইসমাইল সর্দাররা। ভেড়ির আশেপাশে না যাওয়ার জন্য তাঁকে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার রাতে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জোনাব মল্লিক ভেড়িতে গেলে ওত পেতে থাকা শাহজাহান বাহিনী ভারী অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে জলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

তদন্তের আবহ ও সন্ত্রাসের পুনরুত্থান

এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার ঠিক আগের দিনই সন্দেশখালিতে ভয় দেখিয়ে জমি জবরদখল ও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় কলকাতায় ইডির বিশেষ আদালতে শেখ শাহজাহানসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সন্দেশখালিতে সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে প্রায় ৫ কোটি টাকা বেআইনিভাবে উপার্জন করা হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

আদালতে যখন শাহজাহান বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই আবহেই মাঠপর্যায়ে পুরোনো কায়দায় জমি ও ভেড়ি দখলের এই চেষ্টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মূল চাঁই জেলে থাকলেও এলাকায় তাঁর অনুগামীদের প্রভাব এবং ভয়ের পরিবেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জমি মালিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াতে পারে, যা সন্দেশখালির স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *