সরকারি কিটের দুর্নীতি কেড়ে নিল হাত-পায়ের ২০টি আঙুল, উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন মাউন্টেনিয়ার সুমিত! – এবেলা

সরকারি কিটের দুর্নীতি কেড়ে নিল হাত-পায়ের ২০টি আঙুল, উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন মাউন্টেনিয়ার সুমিত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরাখণ্ডের ২২,৭৪৪ ফুট উচ্চতার শ্রীকৈলাশ শৃঙ্গ জয় করার স্বপ্ন পূরণ হলেও, তার বিনিময়ে হারাতে হয়েছে হাত ও পায়ের কুড়িটি আঙুল। হুগলির পাণ্ডুয়ার তিন্নার বাসিন্দা, প্রতিশ্রুতিমান পর্বতারোহী সুমিত দাসের জীবন এখন কাটছে একটি জেরক্সের দোকান চালিয়ে। আট বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতির জন্য তৎকালীন যুব কল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের দুর্নীতি ও গাফিলতিকেই সরাসরি দায়ী করছেন এই অভিযাত্রী।

নিম্নমানের সামগ্রী ও সরকারি গাফিলতি

২০১৫ সালে দার্জিলিং মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর সুমিতের স্বপ্ন ছিল পেশাদার পর্বতারোহী হওয়া। ২০১৭ সালে যুব কল্যাণ দফতরের বিজ্ঞাপনে আবেদন করে তিনি এই অভিযানের জন্য নির্বাচিত হন। সুমিতের অভিযোগ, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে অভিযানের ঠিক প্রাক্কালে গন্তব্য পরিবর্তন করে তাঁদের শ্রীকৈলাশে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের যে সমস্ত সুরক্ষাসামগ্রী যেমন জ্যাকেট, গ্লাভস, জুতো, স্লিপিং টেন্ট ও ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের এবং উচ্চ হিমালয়ের আবহাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। এক কোমর বরফ কেটে এগোনোর সময় তাঁবু দিয়ে জল পড়া এবং কিটের গুণগত মান খারাপ হওয়ার কারণেই তীব্র ঠাণ্ডায় তিনি ‘ফ্রস্টবাইট’-এর শিকার হন। চিকিৎসায় তাঁর হাত ও পায়ের ২০টি আঙুলই বাদ দিতে হয়। দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও চিকিৎসা সহায়তা বা প্রাপ্য মেডিকেল বেনিফিট মেলেনি বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পাণ্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর আমলের বড়সড় দুর্নীতি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ভুক্তভোগী পর্বতারোহীর পাশে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের শীর্ষস্তরে চিঠি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সরকারি দুর্নীতির কারণে একজন সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদের জীবন পঙ্গু হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই ঘটনার প্রভাবে আগামীদিনে সরকারি ব্যবস্থাপনার ওপর সাধারণ ক্রীড়াবিদদের ভরসা কমতে পারে এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত সুরক্ষাসামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা না মিললে যুবসমাজ এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু গৌরবময় ক্রীড়া ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার সাহস হারাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *