মানসকে ‘দাদা’ বলে রাজনীতিতে সৌজন্যের নয়া নজির দিলীপের, এবার বিজেপিতে আসছেন মানসবাবু? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলবদলের আবহের মাঝেই এক নজিরবিহীন সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল। সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগী প্রবীণ রাজনীতিবিদ তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞাকে ‘দাদার মতো’ শ্রদ্ধা করেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইঞা দল ছাড়ার ঘোষণা করেন এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান। এই ঘটনার পরেই খড়গপুরের এক কর্মসূচিতে এসে মানসবাবুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ।
সৌজন্যের রাজনীতি বনাম পদ্ম শিবিরের সমীকরণ
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান যে, মানস ভুঁইঞা রাজনীতিতে তাঁর সিনিয়র এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। পালটা দিলীপ ঘোষের স্পষ্টভাষী ও সরল স্বভাবের প্রশংসা করেছেন মানসবাবুও। তবে এই সৌজন্যের আবহ তৈরি হতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়—মানস ভুঁইঞা কি এবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান যে, দলের রাজ্য সভাপতি ইতিমধ্যেই নবাগতদের জন্য ‘দরজায় তালা’ লাগিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনে ২০৮টি আসন পেয়ে বিপুল জনাদেশ নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এখন আর নতুন করে কাউকে দলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে পদ্ম শিবির।
তৃণমূলের ভাঙন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মানস ভুঁইঞার মতো প্রবীণ নেতার দলত্যাগ ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই দলবদলকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন যে, তৃণমূলের জন্য এখন সব রাজনৈতিক দলের দরজাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে হারের ধাক্কা এবং অন্যদিকে শীর্ষস্তরের নেতাদের দলত্যাগ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ফলে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। একই সাথে, বিজেপি নতুন করে অন্য দল থেকে নেতা ভাঙানোর নীতিতে লাগাম টানায় দলত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও এখন এক বড় প্রশ্নের মুখে।
