পুরুলিয়ায় জাল লটারি চক্রের মূল চাঁই গ্রেফতার, উদ্ধার লাখ লাখ টাকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুরুলিয়ায় দীর্ঘদিনের বেআইনি ও জাল লটারি কারবারের শিকড় উপড়ে ফেলতে বড়সড় সাফল্য পেল জেলা পুলিশ। জেলার নতুন পুলিশ সুপারের তৎপরতায় নিতুড়িয়া থানার পুলিশ এই চক্রের প্রধান সরবরাহকারী বা ‘কিংপিন’ এবং এক ডিস্ট্রিবিউটরকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ১০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। প্রায় এক বছর ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই চক্রের মূল হোতা।
তদন্তের সাফল্য ও পুরোনো মামলার সূত্র
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম গণেশ সাউ এবং শক্তি যাদব। এর মধ্যে গণেশ সাউ এই চক্রের মূল সরবরাহকারী এবং শক্তি যাদব নিতুড়িয়া এলাকায় জাল লটারি বণ্টনের কাজ করত। গত ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল নিতুড়িয়া এলাকাতেই জাল লটারি বিক্রির অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় উদ্ধার হয়েছিল প্রচুর ভুয়ো লটারি এবং নগদ ২২ হাজার টাকা। ওই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত গণেশ সাউ গা ঢাকা দিয়ে ছিল। গত রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
কাজের ধরন, আর্থিক ক্ষতি ও ঝাড়খণ্ড যোগ
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা সরকারি অনুমোদিত কাগজের লটারি হুবহু নকল করে ছাপাত, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা প্রায় আসাম্ভব। বৈধ লটারির তুলনায় এই জাল লটারি বিক্রিতে দ্বিগুণ কমিশন পাওয়ার লোভে অনেক বিক্রেতাই এই বেআইনি কারবারে জড়িয়ে পড়ত। পুলিশি নজরদারি এড়াতে তারা বড় শহরের বদলে গ্রামীণ ও ব্লক এলাকাগুলোকে নিজেদের আস্তানা বা ‘সেফ জোন’ হিসেবে ব্যবহার করত। এই চক্রের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছিলেন, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল। অতীতে জেলা পুলিশ ও সিআইডি-র তদন্তে এই ধরনের চক্রের সাথে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের যোগসূত্র মিলেছিল। বর্তমান এই ঘটনার পেছনেও ঝাড়খণ্ডের কোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
