সংসদে চরম নারীবিদ্বেষের অভিযোগ, কল্যাণকে বহিষ্কারের দাবিতে সরব কাকলি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভার অন্দরে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চরম নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও অভব্য আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তাঁকে সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানালেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সম্প্রতি আরও ১৯ জন সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে এনসিপিআই শিবিরে যোগ দিয়েছেন কাকলি। রাজনৈতিক এই পালাবদলের ঠিক পরেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া তাঁর এই লিখিত অভিযোগ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে সংসদে এই ধরণের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শিষ্টাচার ভঙ্গের ঘটনা অনভিপ্রেত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পরিকল্পিত হেনস্থা ও নারীবিদ্বেষের অভিযোগ
স্পিকারকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, সংসদের বিভিন্ন বৈঠক এবং অধিবেশন চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমাগত তাঁকে এবং অন্যান্য মহিলা সাংসদদের নিশানা করছেন। তাঁদের উদ্দেশে লাগাতার আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সংসদে এটি একটি পরিকল্পিত রূপ নিয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদের সীমা ছাড়িয়ে এই ধরনের আচরণ সরাসরি মানসিক হেনস্থায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বারবার ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ভয় দেখানোর ফলে সাংসদদের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সংসদীয় গরিমা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই কুরুচিকর আচরণের ফলে সংসদে মহিলা সদস্যদের স্বাধীন ও নির্ভীকভাবে কাজ করার পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কাকলি। তিনি জানিয়েছেন, এই আচরণ লোকসভার কার্যপরিচালনা বিধির ৩৪৯ এবং ৩৫২ নম্বর নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সংবিধানের ১০৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সাংসদদের যে বাকস্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা কখনওই কাউকে হেনস্থা করার ছাড়পত্র হতে পারে না। সংসদে মহিলাদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি লোকসভার ৩১৪(১) নম্বর নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারকে অবিলম্বে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। স্পিকার এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে সংসদীয় রাজনীতির পরবর্তী সমীকরণ ও সংসদীয় পরিবেশের ভারসাম্য।
