পাহাড়ের মন জয়ে কার্শিয়াঙে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তুঙ্গে প্রত্যাশার পারদ – এবেলা

পাহাড়ের মন জয়ে কার্শিয়াঙে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তুঙ্গে প্রত্যাশার পারদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে পালাবদলের পর এবার পাহাড়ের মন পেতে মরিয়া নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার কার্শিয়াঙে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ যে সম্পূর্ণ বদলে গেছে, তার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে ব্যালট বক্সে। পাহাড়ের চারটি আসনই এবার দখল করেছে পদ্ম শিবির। ফলে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম সফরকে ঘিরে পাহাড়বাসীর প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে।

উন্নয়নের রোডম্যাপ ও জনসংযোগ

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘জনকল্যাণ শিবির’-কে। এটি আদতে সরকারের প্রথম সবথেকে বড় ‘মাস আউটরিচ’ বা জনসংযোগ কর্মসূচি। ১৫ জুন থেকেই রাজ্যজুড়ে এই শিবির শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি পরিষেবা সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। সফরসূচি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে বিশেষ বিমানে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মুখ্যমন্ত্রী কপ্টারে করে কার্শিয়াঙের চাঁদমারি গ্রাউন্ড হেলিপ্যাডে নামবেন। সেখান থেকে সড়কপথে গোয়েথালস মেমোরিয়াল স্কুলে গিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের ‘জনকল্যাণ শিবির’ পরিদর্শন করতে পারেন। এর ফলে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর এক অনন্য সুযোগ তৈরি হবে। এরপর কার্শিয়াঙের বিখ্যাত মন্টেভিয়ট গ্রাউন্ডে মূল প্রশাসনিক ও দলীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এবারের নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ ঢেলে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। চারটি আসনেই গেরুয়া ঝড় ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই এই সফরকে পাহাড়ের মানুষের জন্য এক বড় পুরস্কার হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। প্রথম পাহাড় সফরেই মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের জন্য বড় কোনো উন্নয়নমূলক প্যাকেজ বা প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন চলছে। বিশেষ করে পাহাড়ের অর্থনীতির মূল ভিত্তি পর্যটন শিল্পের বিকাশ, অনুন্নত পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চা-বাগান সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর সবার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মঙ্গলবার কার্শিয়াঙের এই প্রশাসনিক বৈঠক কেবল রুটিন মাফিক কোনো কর্মসূচি নয়, বরং এটি পাহাড়ের রাজনীতি ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *