হাত-পায়ের ২০টি আঙুলই বাদ! এবার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ পর্বতারোহীর – এবেলা

হাত-পায়ের ২০টি আঙুলই বাদ! এবার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ পর্বতারোহীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হুগলি: চন্দননগরের পিয়ালি বসাকের পর এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পান্ডুয়ার পর্বতারোহী সুমিত দাস। তাঁর দাবি, তৎকালীন রাজ্য সরকারের দেওয়া অত্যন্ত নিম্নমানের কিট ও সামগ্রীর কারণেই ২০১৮ সালের শ্রীকৈলাস পর্বত অভিযানে গিয়ে ফ্রস্টবাইটে তাঁর হাত ও পায়ের ২০টি আঙুলই বাদ চলে যায়। শেষ হয়ে যায় পর্বতারোহণের স্বপ্ন। বর্তমানে পান্ডুয়ার তিন্না বাজারে একটি ছোট্ট দশকর্মা ও জেরক্সের দোকান চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চলে তাঁর।

‘সুদর্শন’ বদলে ‘শ্রীকৈলাস’, দেওয়া হয়েছিল নিম্নমানের জ্যাকেট-তাঁবু:

সুমিত জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে যুবকল্যাণ দপ্তরের পর্বত অভিযানের বিজ্ঞাপনে আবেদন করার পর তিনি নির্বাচিত হন। প্রথমে গাড়োয়াল হিমালয়ের ‘সুদর্শন’ শৃঙ্গ অভিযানের কথা থাকলেও, ২০১৮ সালের অক্টোবরে শেষ মুহূর্তে তাঁদের ২২,৭৪৪ ফুট উচ্চতার ‘শ্রীকৈলাস’ শৃঙ্গ অভিযানে পাঠানো হয়। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজেই এই অভিযানের উদ্বোধন করেছিলেন। সুমিতের অভিযোগ, চরম ঠান্ডার ওই অভিযানের জন্য তাঁদের যে জ্যাকেট, উলেন মোজা, জুতো, গ্লাভস ও স্লিপিং টেন্ট দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের।

মর্মান্তিক সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা:

স্মৃতিচারণ করে সুমিত বলেন, “অভিযানের দিন ভোর ৩টে নাগাদ দেখি আমাদের তাঁবু থেকে জল পড়ছে। কোমর সমান বরফ কেটে এগোতে হয়েছিল। যে কিট, ম্যাট্রেস, জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল, তা ওই আবহাওয়ার জন্য একদম অনুপযুক্ত ছিল। শৃঙ্গ জয় করতে যাওয়ার দিনই আমার ফ্রস্টবাইট হয়। হাত-পায়ের কুড়িটা আঙুলই বাদ চলে যায়।” তাঁর আরও অভিযোগ, এরপর প্রশাসনের দরজায় একাধিকবার কড়া নাড়লেও কোনও চিকিৎসার আর্থিক সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ পাননি তিনি। এই বিষয়ে যুবকল্যাণ দপ্তরের উপদেষ্টা দেবদাস নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

শুরু রাজনৈতিক তরজা:

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সুমিত দাস ইতিমধ্যেই পান্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদারের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “বিগত সরকারের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস অনেক দুর্নীতি করেছেন। পিয়ালি বসাক, সুমিত দাসদের মতো অনেকের সাথেই এই অন্যায় হয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি দেব।” সব মিলিয়ে, প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *