টিটেনাস ইনজেকশনের দাম একলাফে বাড়ছে ৫০%! জোগান বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: বাজারে জীবনদায়ী ওষুধের আকাল রুখতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। মারণ টিটেনাস সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি ইনজেকশন ‘অ্যান্টি-টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন’ (ATIG)-এর সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (Ceiling Price) ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধমূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ বা ‘এনপিপিএ’ (NPPA)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, রোগীদের জন্য বাজারে এই জরুরি ওষুধটির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল।
বর্তমানে বাজারে ২৫০ এবং ৫০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট (IU)-এর এটিআইজি ভায়ালের দাম রয়েছে যথাক্রমে ১,২৭৫ টাকা ও ১,৯২০ টাকা। এই ৫০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির অনুমোদনের ফলে ইনজেকশন দুটির দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে যথাক্রমে ১,৯১২ টাকা ও ২,৮৮১ টাকা।
কেন এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি?
এনপিপিএ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানির চড়া খরচ এবং উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে এই ওষুধ তৈরি করা সংস্থাগুলির কাছে ক্রমশ অলাভজনক হয়ে উঠছিল। এর ফলে বাজারে ওষুধটির উৎপাদন কমে যাওয়া বা বড়সড় জোগানে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির আবেদনের ভিত্তিতেই ড্রাগস প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (DPCO)-এর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
কেন এই ইনজেকশন এত গুরুত্বপূর্ণ?
চিকিৎসকদের মতে, এটিআইজি (ATIG) মূলত ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, কোনও ক্ষতস্থানে মাটি, ধুলো, বালি কিংবা মরচে ধরা লোহা লাগলে বা পশুপ্রাণীর কামড়ে টিটেনাস সংক্রমণের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এড়াতে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়। সাধারণ টিটেনাস টিকার শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু এটিআইজি ইনজেকশন দ্রুত প্রস্তুত অ্যান্টিবডি সরবরাহ করে রোগীকে তৎক্ষণাৎ সুরক্ষা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ রোগীদের পকেটে চাপ কিছুটা বাড়লেও, জরুরি চিকিৎসার সময় বাজারে ওষুধের জোগান যাতে কোনওভাবেই বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি ছিল।
