জামাইষষ্ঠীর মুখে আগুন মাছের বাজারে, পকেট ফাঁকা হলেও আপ্যায়নে খামতি রাখছেন না শ্বশুর-শাশুড়িরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাত পোহালেই বাঙালি হিন্দুদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব জামাইষষ্ঠী। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মালদহের রথবাড়ি-সহ বিভিন্ন খুচরো ও পাইকারি মাছের বাজারে এখন ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় জামাইকে পছন্দের পদ রেঁধে খাওয়াতে সকাল থেকেই শ্বশুর-শাশুড়িরা বাজারমুখী হচ্ছেন। তবে উৎসবের আবহে মাছের আকাশছোঁয়া দামের কারণে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইলিশ, গলদা চিংড়ি, রুই, কাতলা, চিতল থেকে পাবদা— সব ধরনের মাছের দামই একধাক্কায় বেশ কিছুটা বেড়েছে।
চাহিদা বাড়ায় চড়ছে দর
মাছ ব্যবসায়ীদের মতে, জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে হঠাৎ করে বাজারে মাছের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বাজারে পর্যাপ্ত তাজা মাছের জোগান থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দামের ওপর এই প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে বাজারে আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ২২০ টাকা, আড় ৬০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে গঙ্গার কাতলা, ইলিশ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের প্রতিই ক্রেতাদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
খরচের চাপ মেনেও চলছে কেনাকাটা
মাছের এই চড়া দামের কারণে অনেক ক্রেতাই বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ বাজেট মেলাতে দরদাম করে ছোট আকারের ইলিশ বা রুই-কাতলা কিনেই সন্তুষ্ট থাকছেন। তবে দামের এই ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও জামাইয়ের পাত সাজাতে কোনো খামতি রাখতে রাজি নন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। উৎসবের ঐতিহ্য বজায় রাখতে বাড়তি খরচের চাপ মেনে নিয়েই অনেকে ইলিশ ও কাতলা কিনছেন। মাছ ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী কয়েক দিন উৎসবের কারণে দাম কিছুটা চড়া থাকলেও, জামাইষষ্ঠী কেটে গেলে বাজারে জোগান ও দাম দুই-ই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
