তারাপীঠে কি এবার বন্ধ হবে মা তারার দর্শনে টাকার খেলা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাধক বামদেবের পুণ্যভূমি এবং মা তারার অন্যতম তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরেই পুজো ও দর্শনের নামে সাধারণ ভক্তদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছিল। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বেআইনি উপায়ে টাকা নেওয়া, ভুয়ো পরিষেবা দেওয়া এবং সংগৃহীত অর্থের হিসাবে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই এবার নড়েচড়ে বসেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তছরুপের ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে আট সদস্যের বিশেষ কমিটি
গত মাসের ৪ তারিখ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীরভূমের রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক ধ্রুব সাহা সহ একাধিক ব্যক্তি এই আর্থিক অনিয়ম নিয়ে জেলাস্তরে লিখিত অভিযোগ জানান। এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বর্তমানে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্বে থাকা বীরভূমের জেলা শাসক নিজে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট কোষাগারের হিসাব রক্ষক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং মহকুমা শাসক সহ মোট আটজন পদস্থ আধিকারিককে নিয়ে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষ দর্শনের নামে তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিপুল অর্থ ঠিক কোথায় জমা পড়েছে এবং কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা এই কমিটি খতিয়ে দেখবে।
উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ পর্যটক ও ভক্তদের অভিযোগ ছিল যে, মন্দিরে টাকা দিলেই চটজলদি মিলছে মা তারার দর্শন, আর সাধারণ লাইনে দাঁড়ানো পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত দর্শনের নামে একশ্রেণির সেবায়েত ও পুরোহিতদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে পূর্বতন জেলা শাসক বিধান রায় ৫০০ টাকার কুপন কেটে বিশেষ লাইনে প্রবেশের নিয়ম চালু করলেও, তা স্থায়ী হয়নি। মন্দিরের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগৃহীত হলেও সরকারের ঘরে কোনো রাজস্ব জমা পড়ছিল না, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে মন্দিরে দালাল চক্র ও পুণ্যার্থী হয়রানি বন্ধ হবে এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের মর্যাদা পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ পর্যটকেরা।
