শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কড়া দাওয়াই! রাস্তায় থুতু ফেললে বা প্রস্রাব করলেই এবার জরিমানা – এবেলা

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কড়া দাওয়াই! রাস্তায় থুতু ফেললে বা প্রস্রাব করলেই এবার জরিমানা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাস্তাঘাট অপরিষ্কার করলে বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে আর কেবল সতর্কবার্তাতেই ছাড় মিলবে না। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে প্রশাসন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের পুর এলাকাগুলিতে জরিমানা ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। শুক্রবার সল্টলেকের নগর উন্নয়ন ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কড়া নির্দেশিকার কথা ঘোষণা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রকাশ্য স্থানে থুতু ফেললে ১০০ টাকা এবং যত্রতত্র প্রস্রাব করলে বা নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে ২০০ টাকা জরিমানা গুনতে হবে নাগরিকদের। পাশাপাশি, দোকানের সামনে আবর্জনা জমিয়ে রাখলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং রাস্তাঘাট যে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, সেই বার্তা স্পষ্ট করা। কড়াকড়ির ফলে শহরের পরিবেশ দূষণমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক স্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

নাগরিকদের সুবিধায় নতুন হেল্পলাইন ও নিকাশি ব্যবস্থা

নাগরিকরা যাতে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারেন, তার জন্য ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ নম্বরের একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরিষেবা মিললেও দ্রুত তা ২৪ ঘণ্টার জন্য চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে শহরের জলমগ্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরসভা ও সেচ দফতর যৌথভাবে কাজ করছে। দ্রুত জল সরাতে বর্তমানে ৩৯টি পাম্পের পাশাপাশি আরও ৮৪টি অতিরিক্ত পাম্পের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা বর্ষার মরশুমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমাবে।

রাজস্ব বৃদ্ধি ও আধুনিক ডিজিটাল পরিকাঠামোয় জোর

শহরের পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রাজস্ব ফাঁকি রুখতেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল হোর্ডিং বসানোর কাজ শুরু হয়েছে, যা ইতিমধ্যে লাউডন স্ট্রিট ও বর্ধমান মার্কেটে চালু হয়ে গেছে। এছাড়া, আধুনিকীকরণ ও পরিবেশ রক্ষার মেলবন্ধনে সৌরশক্তি চালিত ডিজিটাল বাসস্ট্যান্ড তৈরির যুগান্তকারী পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এই আধুনিক বাসস্ট্যান্ডগুলিতে যাত্রীদের জন্য মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা থেকে শুরু করে শিশুদের খাওয়ানোর জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসনের এই বহুমুখী উদ্যোগ পরিকাঠামোগত দিক থেকে শহরকে আরও উন্নত এবং বাসযোগ্য করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *