শৃঙ্খলমুক্ত বাংলা এবার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের পথে! তারকেশ্বরে ঐতিহাসিক পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথমবার বাংলায় পা রেখেই সার্বিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে তিনি ঘোষণা করেন, বাংলা আজ সমস্ত শৃঙ্খল ও বাধা থেকে মুক্ত হয়ে নিজের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। রাজ্যে নব্য প্রতিষ্ঠিত বিজেপি সরকারের উদ্যোগে এই প্রথম ২০ জুন তারিখটিকে সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বড়সড় পটপরিবর্তন।
উন্নয়নের নতুন গতি এবং কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বাংলার বিগত বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করে বলেন, গত কয়েক দশকে আগের সরকারগুলো রাজ্যে যে গর্ত বা স্থবিরতা তৈরি করেছিল, তা পূরণ করতে এখন নতুন সরকার পূর্ণ গতিতে কাজ শুরু করেছে। এদিন বাংলায় কয়েকশো কোটি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন গতি আনবে। এর পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে রাজ্যে আজ থেকেই বহুল প্রতীক্ষিত ‘পিএম ফসল বিমা প্রকল্প’ চালু করা হলো। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা সরাসরি লোকসানের হাত থেকে আর্থিক সুরক্ষা পাবেন। একই সাথে, দীর্ঘ বছর ধরে আটকে থাকা সীমান্ত এলাকার কাঁটাতার বসানোর কাজ নতুন সরকারের দ্রুত জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে গতি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করবে।
সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবন এবং শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতি সংরক্ষণ
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী জলভরা সন্দেশ ও রসগোল্লা দিয়ে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে জানান যে, কলকাতায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি ১২৫ ফুট উঁচু দণ্ডায়মান মূর্তি স্থাপন করা হবে। এছাড়া হুগলির জিরাটে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাসভূমিটি রাজ্য সরকার কিনে নিয়ে সেটিকে সংস্কার করবে এবং সেখানে একটি আধুনিক স্মৃতিশৌধ ও লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে।
এই সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় রেখে বাংলায় পরিকাঠামোগত, সীমান্ত নিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, অন্যদিকে তেমনি দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের কাজ ত্বরান্বিত হবে।
