দুর্ঘটনায় আর ছুটতে হবে না কাঁথি! দিঘা হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে ট্রমা সেন্টার ও আইসিইউ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দিঘা: সৈকত শহরে ঘুরতে এসে বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে চিকিৎসার জন্য আর দূরে ছুটতে হবে না। পর্যটক ও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে তৈরি হতে চলেছে ট্রমা সেন্টার ও আইসিইউ (ICU)। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই ঘোষণা করায় খুশির হাওয়া পর্যটন শহরে।
কেন এই জরুরি পদক্ষেপ?
দিঘায় প্রতি বছর প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ পর্যটকের সমাগম হয়। এর উপর নতুন জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর ভিড় আরও বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় দিঘার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ছিল একেবারেই বেহাল।
- ১৯৭৯ সালে তৈরি ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে কোনও আইসিইউ, ট্রমা সেন্টার, ব্লাড ব্যাঙ্ক, শববাহী গাড়ি বা ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা ছিল না।
- জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুল্যান্সের সংখ্যাও মাত্র একটি।
- সম্প্রতি স্পিডবোটের ধাক্কায় এক পর্যটকের মৃত্যুতে এই বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে রোগীদের দ্রুত কাঁথি হাসপাতালে স্থানান্তর করা ছাড়া কোনও উপায় থাকত না।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই বাজেটে ঘোষণা
সম্প্রতি দিঘায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে হাসপাতালের এই বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি ঢেলে সাজানোর আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেটে দিঘা হাসপাতালের জন্য ট্রমা সেন্টার তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
খুশি প্রশাসন ও পর্যটন মহল
দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ অসিত দেওয়ান জানান, “দিঘায় একটি ট্রমা সেন্টারের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। স্বাস্থ্য দপ্তরে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমতি মিললেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু হবে।”
এই ঘোষণায় স্বস্তিতে দিঘার হোটেল ব্যবসায়ীরাও। দিঘা শঙ্করপুর হোটেলিরার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে ট্রমা সেন্টার তৈরি হলে দুর্ঘটনার পর আহত পর্যটকদের দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে, যা পর্যটন শহরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
