প্রোমোটারদের দাদাগিরি! বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী শশাঙ্ক বিল ভরাট ঘিরে ধুন্ধুমার, বাধার মুখে খোদ প্রশাসন – এবেলা

প্রোমোটারদের দাদাগিরি! বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী শশাঙ্ক বিল ভরাট ঘিরে ধুন্ধুমার, বাধার মুখে খোদ প্রশাসন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্ধমান: সরকার বদল হলেও ছবিটা যে বদলায়নি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। প্রশাসনের কড়া নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বর্ধমান শহরের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি শশাঙ্ক বিল ভরাটের কাজ ফের শুরু হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। বুধবার এই ঘটনার তদন্তে গিয়ে প্রোমোটারদের চরম বাধার মুখে পড়লেন খোদ বিএলআরও (BLRO) আধিকারিকরা।

তদন্তে বাধা ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি:

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে শহরের আনন্দপল্লি, শ্রীপল্লি, জিটি রোড এবং ২ নম্বর ইছলাবাদ সংলগ্ন এলাকার প্রায় ৩০০ বিঘার এই জলাশয় বোজানোর কাজ চলছে। বুধবার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিএলআরও আধিকারিক ও পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রোমোটার সংস্থার লোকজন তাঁদের বাধা দেয়। সেখানে উপস্থিত কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দারের সঙ্গে তাঁদের রীতিমতো বচসা বেধে যায়। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আধিকারিকরা এলাকায় ঢুকে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন।

শশাঙ্ক বিলের গুরুত্ব ও বর্তমান ছক:

ব্রিটিশ আমল থেকে পরিচিত এই বিল নিছক কোনও জলাশয় নয়, বরং বর্ধমান শহরের প্রাকৃতিক জলধারণের অন্যতম প্রধান উৎস। এই জলাভূমি ধ্বংস হলে শহরের বুকে বড়সড় বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

  • বন্যা নিয়ন্ত্রণ: বাঁকা নদীর সঙ্গে যুক্ত এই বিশাল জলাভূমি বর্ষায় অতিরিক্ত জল ধারণ করে শহরকে বন্যা ও জলমগ্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।
  • জীববৈচিত্র্য: প্রতি বছর এখানে পরিযায়ী পাখিরা ভিড় জমায়। এটি বহু জলজ ও স্থলজ প্রাণীর অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: অভিযোগ, সাবমার্সিবল পাম্প লাগিয়ে জল ছেঁচে এবং মাটি ফেলে এই জলাভূমির চরিত্র বদল করে ‘শালিজমি’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। লক্ষ্য, একটি পেল্লায় বহুতল আবাসন গড়ে তোলা।

জাল নথির পুরনো বিতর্ক:

শশাঙ্ক বিল নিয়ে বিতর্ক আজকের নয়। ২০১৪ সালে বর্ধমান পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান স্বরূপ দত্ত অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সই জাল করে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ‘নো অবজেকশন’ (NOC) জমা দিয়ে এই জমির চরিত্র বদলের চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও আজও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বড়সড় ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

পরিবেশপ্রেমীদের হুঁশিয়ারি:

পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এই জলাভূমি ধ্বংস হলে শহরের পরিবেশের ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। শশাঙ্ক বিল রক্ষার দাবিতে এবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে চলেছেন পরিবেশপ্রেমী ও নাগরিক সমাজ। অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপাতত এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *