জেনেভায় পাক সেনাপ্রধানকে হত্যার ছক মোসাদের! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মঞ্চেই এক ভয়াবহ গুপ্তহত্যার ছক! সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইজরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ব্রাজিলের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবর। যদিও ইসলামাবাদ এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে এবং ইজরায়েল এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নীরবতা পালন করছে।
কীভাবে রুখে দেওয়া হল এই ছক
আমেরিকা ও ইরানের শান্তি আলোচনায় প্রথম থেকেই মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য জেনেভায় উপস্থিত ছিলেন আসিম মুনির এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। পেপে এসকোবরের দাবি অনুযায়ী, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশেই মুনির-সহ পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করেছিল মোসাদ। তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গুপ্তচর সংস্থা আগেই এই ছকের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্য পেয়ে যায় এবং দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে একটি বড়সড় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
ইজরায়েলের ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আন্তর্জাতিক মহলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের এই উত্থানকে ইজরায়েল প্রথম থেকেই গভীর সন্দেহের চোখে দেখে আসছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজে পাকিস্তানের ভূমিকায় ইজরায়েল মোটেই সন্তুষ্ট নয়। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার আগেই জানিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসপন্থী কার্যকলাপ চলছে এবং তেল আবিব সেদিকে কড়া নজর রেখেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই গুপ্তহত্যার দাবির সত্যতা যা-ই হোক না কেন, এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করল। এর ফলে আগামী দিনে আমেরিকা, ইরান ও ইজরায়েলের সমীকরণে পাকিস্তানের অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।
