নেতারা বেপাত্তা, ধরছেন না ফোন! জেলায় জেলায় অথৈ জলে তৃণমূলের নিচুতলা – এবেলা

নেতারা বেপাত্তা, ধরছেন না ফোন! জেলায় জেলায় অথৈ জলে তৃণমূলের নিচুতলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: সাংসদ, বিধায়ক বা হেভিওয়েট নেতাদের কেউ দল ছাড়ছেন, কেউ ইস্তফা দিচ্ছেন, আবার কেউ বা গ্রেফতার হচ্ছেন। কিন্তু এই চরম ডামাডোলের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে নিচুতলার কর্মীদের কী অবস্থা? বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তর্ধান ও দলবদলের জেরে চরম দিশেহারা তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা। বেশিরভাগ নেতাই ফোন ধরছেন না, ফলে কার্যত অথৈ জলে পড়েছেন ঘাসফুলের ব্লক ও বুথ স্তরের কর্মীরা।

বিভিন্ন জেলার বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি ঠিক কেমন, তা নিয়ে এক নজরে তৃণমূলের অন্দরের হালহকিকত:

  • নদিয়ায় থ্রেট কালচার ও নেতাদের অন্তর্ধান:নদিয়ার এক প্রবীণ নেতার কথায়, জেলায় আপাতত কেউ সংগঠন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, গোটা জেলায় ‘থ্রেট কালচার’ তৈরি করা হয়েছিল এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শঙ্কর সিং বা যিশু সিংয়ের মতো পরিচিত ব্লক স্তরের নেতারাও এখন বেপাত্তা। ফলে সাধারণ কর্মীরা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
  • কোচবিহারে ফোন ধরছেন না নেতারা, খুঁজছেন ‘শেল্টার’:উত্তরবঙ্গের এই জেলায় পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। প্রাক্তন যুবনেতা রাহুল রায়ের মতে, গ্রাম বা পঞ্চায়েত স্তরের নেতারা কর্মীদের ফোন তো ধরছেনই না, উল্টে তাঁরা নিজেরাই এলাকাছাড়া। জেলা ও ব্লক স্তরের অনেক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। নেতারা নিজেরাই শেল্টার খুঁজছেন, তাই কর্মীদের শেল্টার দেওয়ার মতো কেউ নেই। বাধ্য হয়ে কর্মীরা স্থানীয়ভাবে নিজেদের মতো ‘অ্যাডজাস্ট’ করে নিচ্ছেন।
  • দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কমিটি ভেঙে যাওয়ায় চরম বিভ্রান্তি:এখানকার এক নেতার আক্ষেপ, দলের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ায় কে কোন পদে আছেন, সেটাই কেউ জানেন না। শীর্ষ স্তরের এত বড় ভাঙনে কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। পুরনো নেতৃত্ব ফোন ধরছেন না, ফলে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
  • উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান— ‘তৃণমূল মানেই মমতা’:নেতারা বেপাত্তা হলেও নিচুতলায় এখনও মমতার প্রতি আস্থা অটুট বলেই দাবি একাংশের।
    • উত্তর ২৪ পরগনার প্রাক্তন সভাপতি নির্মল ঘোষ জানিয়েছেন, দলে ভাঙন থাকলেও সৎ কর্মীরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন।
    • একই সুর শোনা গেছে পূর্ব বর্ধমানের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের গলাতেও। তাঁর দাবি, “বড় পদের নেতারাই এদিক-ওদিক যাচ্ছেন বা ঝামেলায় পড়ছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিচুতলার কেউ চেনে না। সাধারণ কর্মীরা এখনও দিদির সাথেই আছেন।”

সারসংক্ষেপ:

সব মিলিয়ে জেলাভিত্তিক চিত্রটা অত্যন্ত স্পষ্ট— দলের উপরতলায় ভাঙন ও নেতাদের গা ঢাকা দেওয়ার কারণে তৃণমূলের বুথ স্তরের কর্মীরা এখন চরম অভিভাবকহীন। অনেকেই নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, কারণ বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলে ‘শান্তিতে বসবাস করাটাই’ তাঁদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *