রামমন্দিরে মেগা দুর্নীতি! গায়েব ৩,৫০০ কোটির প্রণামী, কাঠগড়ায় খোদ ট্রাস্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি/অযোধ্যা: অযোধ্যার রামমন্দিরে বিপুল পরিমাণ প্রণামী চুরির ঘটনায় সামনে এল চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মন্দিরে জমা পড়া ৩,৫০০ কোটি টাকার বেশি নগদ প্রণামী এবং গয়নার বড় অংশেরই কোনও হদিশ নেই! এই দুর্নীতির জেরে ইতিমধ্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মন্দির পরিচালন কমিটি।
সিট (SIT)-এর রিপোর্টের মূল বিষয়গুলি একনজরে:
- উধাও বিপুল ধনরাশি: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ২০২০ সালে গঠিত হয় ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। সেই থেকে এ যাবৎ মন্দিরে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি নগদ এবং প্রচুর সোনা-রুপোর গয়না দান হিসেবে এসেছে। সিট-এর দাবি, এর একটি বড় অংশের কোনও খোঁজ মিলছে না। এমনকি, দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ‘ভূষূণ্ডি কাক’ও উধাও!
- কাঠগড়ায় খোদ ট্রাস্ট: দিনের পর দিন এই বিপুল অঙ্কের নগদ ও গয়না চুরির ঘটনায় ট্রাস্টের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত রয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল। এই কারণেই বর্তমান রামমন্দির ট্রাস্ট অবিলম্বে ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালন পর্ষদ গড়ার কড়া সুপারিশ করা হয়েছে।
- উপেক্ষিত পূর্ব সতর্কতা: মন্দির নির্মাণের শুরুতেই একটি বেসরকারি অডিট সংস্থা ট্রাস্টকে সতর্ক করেছিল। তারা জানিয়েছিল, বিপুল দান ও প্রণামীর হিসেব রাখা এবং তা সুরক্ষিত রাখার মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো মন্দিরে নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা সত্ত্বেও কেন ট্রাস্ট নীরব ছিল, তা নিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক তরজা ও যোগীর আশ্বাস:
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে এই রিপোর্ট রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। জানা গিয়েছে, এই চুরির গুঞ্জনের জেরে মন্দিরে দান আসার পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৭২% কমে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অবশ্য কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, “১৫ দিন ধৈর্য ধরুন, কোনও অপরাধী ছাড় পাবে না।”
অন্যদিকে, এই তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি তোপ দেগেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি অভিযোগ করেন, “এফআইআর ছাড়া সিটের এই তদন্ত অনেকটা তির ছাড়া ধনুকের মতো। তদন্তের নামে যা প্রকাশ পাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু আসলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
