‘কাজ না পারলে ইস্তফা দিন!’ মন্ত্রীর কড়া ফেসবুক পোস্টে তোলপাড় শ্রীরামপুর-রিষড়া – এবেলা

‘কাজ না পারলে ইস্তফা দিন!’ মন্ত্রীর কড়া ফেসবুক পোস্টে তোলপাড় শ্রীরামপুর-রিষড়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হুগলি: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের (West Bengal BJP Government) পর থেকেই একাধিক পুরসভায় পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা, বসানো হয়েছে প্রশাসক। এবার সরাসরি শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুরসভার পুরপ্রধানদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা উসকে দিলেন মন্ত্রী তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য।

কী লিখেছেন মন্ত্রী?

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে কড়া ভাষায় মন্ত্রী একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন:

“মাননীয় পুরপ্রধানদের বলছি, শ্রীরামপুর ও রিষড়া পুরসভার মানুষকে ঠিকমতো পরিষেবা না দিতে পারলে আপনারা পদত্যাগ করুন। এলাকায় কোনও অনিয়ম, মানুষের অসুবিধা এই সরকার মেনে নেবে না। আমার ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। মানুষ যা চাইছে এবার তাই হবে।”

কেন এই চরম হুঁশিয়ারি?

এই পোস্টের পরেই দুই পুর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে নিজের ক্ষোভের কারণ স্পষ্ট করে মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী বারবার মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন।

  • অভিযোগের পাহাড়: তিনি নিজে দুই পুরসভায় গিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু অনেকেই তাঁর সহযোগিতার বার্তাকে ‘দুর্বলতা’ ভেবে নিয়েছেন।
  • রিষড়ার অবস্থা: রিষড়ায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে লাগাতার অভিযোগ আসছে। মন্ত্রীর কথায়, পরিষেবা না পেয়ে বহু জায়গার মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠছেন।
  • দায়বদ্ধতা: তিনি স্পষ্ট জানান, পুরসভার দায়িত্ব নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়া। তা না পারলে পদত্যাগ করা উচিত। পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

কী বলছেন শ্রীরামপুরের পুরপ্রধান?

মন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা সুর নরম করেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখে কাজ করছি। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাস্তার কাজ আংশিক হয়েছে, কিছুটা বাকি। আমরা পরিষেবা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ প্রসঙ্গে গিরিধারীবাবু জানান, “পদত্যাগের বিষয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। প্রয়োজনে বিধায়কের সঙ্গেও কথা বলব। যদি সত্যিই কাজ করতে না পারি, তবে নিশ্চয়ই তাঁর কাছে গিয়ে সে কথা মানব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *