ধ্বংসস্তূপে চাপা কতজন? তারাতলা বিপর্যয়ে লালবাজারের ‘সিট’, ফাঁস চরম গাফিলতি – এবেলা

ধ্বংসস্তূপে চাপা কতজন? তারাতলা বিপর্যয়ে লালবাজারের ‘সিট’, ফাঁস চরম গাফিলতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: তারাতলার বেআইনি গুদাম ভেঙে পড়ার (Taratala Godown Collapse) ঘটনায় এবার ৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (DD) ডিসি-র নেতৃত্বে এই দল কাজ করবে। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান।

নির্মাণকারী সংস্থা, জমির মালিক এবং এর নেপথ্যে থাকা মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) কড়া ধারায়— অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে।

প্রকাশ্যে অভিযুক্তদের অন্ধকার অতীত: এই ঘটনায় গুদামের মূল মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে ধৃতদের বেশ কয়েকজনের অপরাধমূলক অতীত সামনে এসেছে:

  • সৈয়দ মহম্মদ গুলজার: ধৃত এই বিল্ডিং সুপারভাইজার আদতে একজন দাগী অপরাধী। একবালপুর থানায় তার বিরুদ্ধে দাঙ্গা, মারপিট ও তোলাবাজির পুরনো রেকর্ড রয়েছে।
  • আসগার হোসেন: দুর্ঘটনায় মৃত এই লেবার সাপ্লায়ারই সস্তায় ৫০-৬০ জন শ্রমিককে এই সাইটে নিয়ে আসত। আসগারের বিরুদ্ধেও অতীতে ২টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা ছিল। ধৃত গুলজার ছিল তার ডানহাত।

নেই হাজিরা খাতা, নিখোঁজ কত? দুর্ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাতে গিয়ে এক মারাত্মক গাফিলতির খোঁজ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। জানা গেছে, গত ৩ মাস ধরে এই মেগা প্রজেক্টে কাজ চললেও শ্রমিকদের নাম নথিভুক্ত করার কোনও ‘রেজিস্টার খাতা’ বা মাস্টার রোল ছিল না। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মৌখিক চুক্তিতে শ্রমিকদের খাটানো হচ্ছিল।

হাজিরা খাতা না থাকায় ঠিক কতজন শ্রমিক ওই ৫ তলা বিল্ডিংয়ের ভেতরে বা ছাদে কাজ করছিলেন, তা পুলিশের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন চাপা পড়ে আছেন, সেই শঙ্কা এখনও কাটছে না।

ইতিমধ্যেই এই বেআইনি নির্মাণের নকশা এবং ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুরসভার (KMC) কাছে সমস্ত জরুরি নথি চেয়ে পাঠিয়েছে লালবাজারের নতুন ‘সিট’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *