তিস্তায় ‘চিন-যোগ’, দিল্লিকে এড়িয়ে বেজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন তারেক! – এবেলা

তিস্তায় ‘চিন-যোগ’, দিল্লিকে এড়িয়ে বেজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন তারেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঢাকা: তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এবার চিনের সাথে সরাসরি হাত মেলাল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সাথে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবণ্টন চুক্তির সুরাহা না হওয়ায়, এবার তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনার জন্য বেজিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

দিল্লিকে বাদ দিয়ে কেন বেজিং?

সম্প্রতি চিন সফরে গিয়ে তারেক রহমান সে দেশের জলসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়িংয়ের সাথে তিস্তা নদী প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাবি অনুযায়ী, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও নৌ-পরিবহন প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য চিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অথচ তিস্তা নদীর বেশিরভাগ অংশ ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে ভারতকেই রাখা হয়নি।

চিনের অফারে বাংলাদেশের ‘তিস্তা-প্রকল্প’

জানা গেছে, শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশের সার্বিক জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেজিং। এমনকি বাংলাদেশের আধিকারিকদের জল ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণের জন্য চিনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ২০০৫ সালের একটি সমঝোতা স্মারকের (MoU) দোহাই দিয়ে চিন জানিয়েছে, তারা কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। গত বছর চিনা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার তিস্তা প্রকল্পে চিনের সরাসরি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের মাথাব্যথার কারণ কী?

ভারতের উদ্বেগ মূলত দুটি কারণে—

১. ভৌগোলিক অবস্থান: তিস্তার উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই নদীটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে চিনকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে টেনে আনা মানে ভারতের সীমান্তের খুব কাছে বেজিংয়ের প্রভাব বলয় তৈরি হওয়া।

২. আঞ্চলিক নিরাপত্তা: ভারতের প্রতিবেশী দেশে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও জল-কূটনীতিতে বেজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকা দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চিনের এই গভীর সখ্যতা ভারতের জন্য বড় এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নয়াদিল্লি এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মোকাবিলা করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *