অনলাইন প্রতারণায় টাকা খোয়ালেও মিলবে ক্ষতিপূরণ, গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে বড় ঘোষণা আরবিআইয়ের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনের যুগে অনলাইন প্রতারণা বা ইউপিআই স্ক্যাম একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতারিত গ্রাহকরা তাঁদের খোয়া যাওয়া অর্থ আর ফেরত পান না। তবে এই সমস্যার সমাধানে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরবিআই একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যার ফলে এখন থেকে ডিজিটাল বা অনলাইন প্রতারণার শিকার হলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ পাবেন সাধারণ মানুষ। ২০২৬ সালের ২৪ জুন জারি করা এই নিয়মটি আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে চলেছে।
ক্ষতিপূরণের তিন প্রধান শর্ত
নতুন নির্দেশিকায় ব্যাঙ্কগুলিকে অধিক দায়বদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল গ্রাহকের গাফিলতির অজুহাত দিয়ে ব্যাঙ্কগুলি দায় এড়াতে পারবে না, বরং তাদের তা প্রমাণ করতে হবে। আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী মূলত তিনটি ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণ মিলবে। প্রথমত, ব্যাঙ্কের নিজস্ব কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে টাকা চুরি গেলে, গ্রাহক অভিযোগ জানান বা না জানান, ব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। দ্বিতীয়ত, প্রতারণা যদি পেমেন্ট গেটওয়ে বা টেলিকম প্রোভাইডারের মতো কোনো তৃতীয় পক্ষের কারণে হয়, তবে ঘটনার ৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ জানালে গ্রাহক সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন। তৃতীয়ত এবং সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— গ্রাহক যদি নিজের ভুলেও ওটিপি শেয়ার বা ফিশিং লিঙ্কে ক্লিক করে ফেলেন, তবুও দ্রুত অভিযোগ জানালে তিনি আংশিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রাহকের নিজস্ব অসতর্কতার ক্ষেত্রে জীবনে মাত্র একবারই এই ক্ষতিপূরণের সুবিধা পাওয়া যাবে। এই নিয়মে খোয়া যাওয়া অর্থের ৮৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম) ক্ষতিপূরণ হিসেবে মিলবে। ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী এই ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, গ্রাহকের ব্যাঙ্ক এবং যে ব্যাঙ্কে প্রতারকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে (সুবিধাভোগী ব্যাঙ্ক), তারা সম্মিলিতভাবে বহন করবে।
ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি তৈরি হয়েছিল, আরবিআইয়ের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ তা অনেকটাই কমাবে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে একদিকে যেমন ব্যাঙ্কগুলি তাদের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে বাধ্য হবে, তেমনি অন্যদিকে ছোটখাটো অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ বড়সড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে সরাসরি নিরাপত্তা পাবেন।
