তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়: ফিরহাদের স্বাক্ষর করা নথিতেই ‘সব ঠিক’ ছিল! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্মীয়মাণ ওই গুদামের নকশায় কোনো অনিয়ম নেই— এমন দাবি সম্বলিত কলকাতা পুরসভার যে ছাড়পত্রটি প্রকাশ পেয়েছে, তাতে রয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর। এই নথিটি এখন রাজনৈতিক মহলে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নথিতে কী ছিল?
পুরসভার নথিপত্র অনুযায়ী, ওই এলাকায় চারতলা গুদাম তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এতে ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও পুরসভার নির্মাণ বিভাগের ডিরেক্টর ও পুর কমিশনারের স্বাক্ষর রয়েছে। এই নকশা অনুমোদনের আবেদন করেছিলেন ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামক সংস্থার শম্ভুনাথ বেহরা। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের লিজ নেওয়া জমিতে চা-পাতা গুদামজাত ও প্যাকেজিংয়ের কাজ করছিল এই সংস্থা।
উদ্ধারকাজ ও মৃতের সংখ্যা:
ঘটনার দু’দিন পরেও উদ্ধারকাজ চলছে তারাতলায়। শুক্রবার পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। এনডিআরএফ, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অক্সিকাটার ও ভারী ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। মৃতদের তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, বর্ধমান ছাড়াও বিহার ও ধানবাদের বাসিন্দারা রয়েছেন। এছাড়া ১৯ জন আহত এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “সিটি অফ জয়কে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করা হয়েছে। এটি আপনাদের পাপের ফল।” এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তৎকালীন মেয়রের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন, যার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে আচমকাই নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার পর থেকে এলাকাটি যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। লোহার বিম ও কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে বহু শ্রমিকের করুণ পরিণতির ঘটনায় এই মুহূর্তে শোকস্তব্ধ রাজ্য।
