ভাঙনের মুখে দল, তবুও ধর্মতলাতেই একুশে জুলাই পালন, চিঠি গেল কলকাতা পুলিশে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন দেখা দিলেও নিজেদের পুরনো রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে মরিয়া কালীঘাট তৃণমূল। আগামী ২১ জুলাইয়ের মেগা ইভেন্ট ‘শহিদ দিবস’ ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই পালন করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চাইল তারা। দলের চরম বিপর্যয়ের মাঝেও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন, পাঁচজন লোক থাকলেও তিনি ধর্মতলাতেই সভা করবেন।
সংগঠন বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা
বর্তমানে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল। দল কার্যত ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ ও ‘কালীঘাট তৃণমূল’—এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাসের মতো একসময়ের প্রথম সারির ছায়াসঙ্গীরাও শিবির বদল করেছেন। এই মুষলপর্বের মাঝে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং বিদ্রোহীদের ফিরিয়ে আনাই এখন মমতার প্রধান লক্ষ্য। ‘আমরা বেইমান নই’ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত এক কর্মিসভা থেকে নেত্রীর বার্তা, টাকার লোভে যাঁরা দল ছেড়েছেন তাঁরা এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মতলার এই ঐতিহ্যবাহী সমাবেশকে কাজে লাগিয়েই সংগঠনকে ফের চাঙ্গা করার এবং বিদ্রোহীদের দলে ফেরানোর শেষ চেষ্টা করতে চাইছেন কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো।
কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তনের ছক
অন্যদিকে, তৃণমূল রাজ্যে পরাজিত হওয়ার পর বিরোধী হিসেবে নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। তৃণমূলের এই ডামাডোলের সুযোগে দীর্ঘ ২৮ বছর পর তারাও এবার ২১ জুলাই পালন করতে মাঠে নামছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে বিধান ভবনের বদলে সরাসরি শহিদ মিনারে এই কর্মসূচি পালিত হবে, যেখানে রাহুল গান্ধীকেও নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই ২১ জুলাইয়ের আসল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়েছে। এই কর্মসূচিকে তারা কেবল শহিদ তর্পণ নয়, বরং সংবিধান রক্ষা এবং মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার করতে চাইছে। এর ফলে আসন্ন শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রবল রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
