বিশ্বকাপে ট্রাম্পের রহস্যময় অনুপস্থিতি! ফাইনালেই কি চমক দেবেন প্রেসিডেন্ট? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসেছে ফুটবল মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে দেশ ও বিদেশের ফুটবলপ্রেমীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের অর্ধেক পথ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই দেখা মেলেনি প্রেসিডেন্টের। ট্রাম্পের এই দীর্ঘ ‘দূরত্ব’ বজায় রাখা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা? সাধারণত বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়মিত দেখা যায়। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি ব্যতিক্রম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফেদেরিকো দে জেসুসের মতে, এটি ট্রাম্পের চরিত্রের সঙ্গেই মানানসই। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প সাধারণত যে ইভেন্টগুলোতে বিপুল দর্শক ও ‘নাটকীয়’ আমেজ থাকে, সেখানেই বেশি আগ্রহী। অতীতে এনবিএ ফাইনালে গিয়ে দর্শকদের বিদ্রুপের মুখে পড়ার পর, বিশ্বকাপেও তেমন কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করে তিনি কিছুটা সতর্ক থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যস্ততা নাকি কৌশল? প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ব্যস্ত সময়সূচিই তাঁর অনুপস্থিতির মূল কারণ। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের সময় তিনি ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা আরও জানিয়েছেন, যদিও তিনি স্টেডিয়ামে সশরীরে নেই, তবুও যুক্তরাষ্ট্র দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনি দলকে ফোনে শুভকামনাও জানিয়েছিলেন।
ফাইনালের মঞ্চে কী চমক? ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, ১৯শে জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার এবং ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট যেকোনো মুহূর্তেই কোনো ম্যাচে উপস্থিত হয়ে চমক দেখাতে পারেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প নাটকীয়তা পছন্দ করেন। তিনি আমাদের সবসময় অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে ভালোবাসেন। তাই ফাইনালের আগেই যে কোনো ম্যাচে তাঁকে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বিল ক্লিনটনের উপস্থিতি ছিল অবিস্মরণীয়। ৩২ বছর পর দেশটি আবারও আয়োজক হলেও বর্তমান প্রেসিডেন্টের এমন নীরবতা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ট্রাম্পের সেই সম্ভাব্য ‘চমক’ দেখার অপেক্ষায়।
